কোনো ভালো আমল বা নফল ইবাদত করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো (ঈসালে
সওয়াব) ইসলামে জায়েজ। তবে এক খতম কোরআন তিলাওয়াত বা কোনো নেক আমলের সওয়াব একাধিক ব্যক্তির নামে বখশিশ করলে প্রত্যেকে কি পূর্ণ সওয়াব পাবেন, নাকি তা ভাগ হয়ে যাবে—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে:
১. বিভক্ত হওয়ার মত: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.) ও হাম্মাদ মাক্কী (র.) সহ কিছু আলেমের মতে, একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব পৌঁছানো হলে তা সবার মাঝে ভাগ বা বণ্টন করে দেওয়া হয়।
২. পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার মত: ইবনে হাজার মাক্কি (র.) ও আল্লামা ইবনে আবেদীন (র.) সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, নিয়তকৃত প্রত্যেক ব্যক্তির নিকটই পূর্ণ সওয়াব পৌঁছায়।
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই দ্বিতীয় মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী; কারণ এটি মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ও দয়ার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। বিশিষ্ট ফকীহ আল্লামা ইবনে আবেদীন (র.) উল্লেখ করেছেন, একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা বা যেকোনো নেক আমল করলে প্রত্যেকেই তার পূর্ণ সওয়াব লাভ করেন।
সওয়াব পৌঁছানোর সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
অনেকেই বাবা-মা, দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর নাম নির্দিষ্ট করে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর সঠিক নিয়ম হলো—নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর নিয়তের সাথে সওয়াব ঈসাল করা।
এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে হাদিসের প্রসঙ্গ টেনে আলেমগণ জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) নফল কোরবানি করার সময় নিজের ও পরিবারের পাশাপাশি সমগ্র উম্মতের পক্ষ থেকেও তা উৎসর্গ করতেন। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসুল (সা.) কোরবানি দিয়ে বলতেন, "হে আল্লাহ! এটি কবুল করুন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে।"
আল্লামা ইবনে আবেদীন (র.) বলেন, নফল সদকা বা যেকোনো নেক আমলের সওয়াব পৌঁছানোর সময় সকল মুমিন নর-নারীর নিয়ত করা সবচেয়ে উত্তম। এতে আমলকারীর নিজস্ব সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্রও কমানো হয় না, বরং সকলের আমলনামায় তা পূর্ণমাত্রায় পৌঁছে যায়। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিভঙ্গিও এটাই।
এসআর