[email protected] রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

অজু ভেঙে যাওয়ার সন্দেহ হলে করণীয় ও শরয়ী বিধান

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অজু হলো পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম। নামাজ আদায় ও কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু করা

 আবশ্যক। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন এবং বিপুল সওয়াব দান করেন। তবে অজু করার সময় শরীরের কোনো অংশ যেন শুষ্ক না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

​অজু নিয়ে সন্দেহ হলে শরিয়তের বিধান

​অজু করার পর যদি কারো মনে সন্দেহ জাগે যে তার অজু ভেঙে গেছে কি না, তবে এর সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ইসলামের একটি মৌলিক ও সর্বজনস্বীকৃত মূলনীতি হলো—‘নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।’

​সে কারণে যদি বাস্তবে অজু ভঙ্গের কোনো কারণ না ঘটে, তবে শুধু মনের সন্দেহ, ধারণা বা ওয়াসওয়াসার কারণে অজু নষ্ট হবে না।

​এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তির সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, যিনি নামাজে মনে করেন যে তার বায়ু বের হয়েছে—তিনি যেন নামাজ ত্যাগ না করেন, যতক্ষণ না এর সুনির্দিষ্ট শব্দ শোনেন বা গন্ধ পান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৭)

​অর্থাৎ, শুধু অনুভূতি বা ধারণার বশে অজু ভাঙেনি বলে গণ্য হবে। ওই অজু দিয়েই পবিত্রতা বহাল থাকবে এবং নামাজ আদায় করা যাবে।

​ওযরগ্রস্ত বা ‘মা’যূর’ ব্যক্তির বিশেষ বিধান

​যদি কারো শারীরিক অবস্থা এমন হয় যে প্রায় প্রতিটি ওয়াক্তে নিয়মিত বায়ু নির্গত হয় এবং তা এত ঘনঘন ঘটে যে সম্পূর্ণ ওয়াক্তের মধ্যে অজু করে ফরজ নামাজ পড়ার মতো সময়ও পাওয়া যায় না, তবে তিনি শরিয়তের পরিভাষায় ‘মা’যূর’ (ওযরগ্রস্ত বা অসুস্থ) হিসেবে গণ্য হবেন।

​মাযূর ব্যক্তির বিধানসমূহ:

​প্রতিটি ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর তাকে একবার নতুন করে অজু করতে হবে।

​সেই অজু দিয়েই ওই ওয়াক্তের ফরজ, সুন্নত ও নফল—সব ধরনের নামাজ আদায় করা যাবে।

​নামাজের মাঝখানে বায়ু বের হলেও সেই কারণে অজু ভাঙবে না।

​পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হলে পুনরায় নতুন করে অজু করতে হবে।

​তবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাযূর সাব্যস্ত করার জন্য তার বিস্তারিত শারীরিক অবস্থা ও সমস্যা পর্যালোচনা করা জরুরি। কারণ, সামান্য কষ্ট বা মাঝে মাঝে বায়ু নির্গত হওয়ার মাধ্যমে কেউ মাযূর হিসেবে গণ্য হন না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর