কালো জাদু এবং খারাপ জিনের উপদ্রব মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইসলামি শরিয়তে
জাদুটোনা বা ব্ল্যাক ম্যাজিক করাকে কুফরি ও কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, হজরত সুলায়মান (আ.)-এর যুগেও জাদুর ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং নবীজির নিষেধ সত্ত্বেও তা বন্ধ হয়নি।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, সুলাইমান কুফরি করেনি, বরং কুফরি করেছিল শয়তানরাই, যারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত। এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, জাদুর বাস্তব প্রভাব রয়েছে এবং জাদু করা সরাসরি ঈমান ভঙ্গের বা মুরতাদ হওয়ার কারণ।
কালো জাদু থেকে সুরক্ষার উপায়
কালো জাদুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য পবিত্র কোরআনে বিশেষ দিকনির্দেশনা রয়েছে। কোরআনের ১১৩তম সুরা ফালাক ও ১১৪তম সুরা নাস পাঠের মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট, জাদুটোনা এবং হিংসুক প্রকৃতির মানুষের কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও জিন ও বদনজর থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত এই দুটি সুরা পাঠ করতেন।
আত্মীয় জাদুটোনা করলে ইসলামি বিধান কী?
আমাদের সমাজে অনেক সময় নিকটআত্মীয়দের মধ্যেও কালো জাদু করার প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব এবং তা ছিন্ন করা হারাম। তবে প্রশ্ন হলো—কোনো আত্মীয় যদি জাদুর মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করে, তবে তার সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে কি না?
এ বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মতামত হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি হলেও নিজের আত্মরক্ষা ও দ্বীন রক্ষার খাতিরে অনিষ্টকারী ব্যক্তির ক্ষতি থেকে দূরে থাকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যদি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে পরিবারের কোনো সদস্য বা আত্মীয় জাদুর মাধ্যমে ক্ষতি করছে, তবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ক্ষতি এড়াতে তার সাথে মেলামেশায় কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলে কোনো গুনাহ হবে না। ইসলামি শরিয়তের সাধারণ মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো মুসলমানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বা ক্ষতির পথ বন্ধ করতে কারো সংস্পর্শ বর্জন করা বৈধ। তবে এক্ষেত্রে অন্তরে স্থায়ী শত্রুতা পুষে না রেখে, সুযোগ থাকলে দূর থেকে খোঁজখবর নেওয়া বা কুশল বিনিময় করা উত্তম।
এসআর