[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

১০ বছর বয়সের পর সন্তানদের ঘুমানোর বিছানা আলাদা করা জরুরি কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামে সন্তানদের শিষ্টাচার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে শিশুদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানোর ব্যবস্থা আলাদা করার বিষয়টিও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সন্তানদের একই বিছানায় না শুইয়ে পৃথক বিছানার ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলেমরা নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

প্রশ্ন: ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী দুই ভাই, দুই বোন কিংবা ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

 

উত্তর: এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তে পৃথক বিছানার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা রয়েছে। সন্তানদের বয়স ১০ বছর হলে তাদের ঘুমানোর জায়গা আলাদা করে দেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। এ নির্দেশনা দুই ভাই, দুই বোন এবং ভাই-বোন—সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

 

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দেওয়া এবং দশ বছর বয়সে নামাজের বিষয়ে শাসন করার পাশাপাশি তাদের বিছানা পৃথক করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (হাদিস: ৪৯৫)

 

আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানি (রহ.)-এর উদ্ধৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিশুদের লিঙ্গ একই হোক কিংবা ভিন্ন, তাদের বিছানা আলাদা করার বিধান সবার জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ দুই ভাই, দুই বোন কিংবা ভাই-বোনের ঘুমানোর জায়গা পৃথক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া সুনানে দারাকুতনি ও আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইনে সন্তানদের বিছানা পৃথক করার বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। ফাতাওয়া শামিতেও ১০ বছর বয়সী ছেলে-মেয়ের ঘুমানোর ব্যবস্থা আলাদা রাখার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

 

একই বিছানায় ঘুমানোর বিকল্প কী?

ইসলামী নির্দেশনা অনুসারে, সন্তানদের জন্য সম্ভব হলে আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করাই উচিত। তবে বাসায় জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকলে ঘুমানোর জায়গা কীভাবে পৃথক রাখা যায়, তা পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঠিক করা যেতে পারে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

 

মূল কথা: সন্তানদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসর ও শালীনতা বজায় রাখার শিক্ষা দেওয়া জরুরি। হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে ১০ বছর বয়স থেকে তাদের ঘুমানোর বিছানা আলাদা রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৫; সুনানে দারাকুতনি, হাদিস ৮৮৬; ফাতাওয়া শামি, ৬/৩৮২।

এসআর

সম্পর্কিত খবর