[email protected] সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তালাকের পর সাবেক স্বামীকে আবার বিয়ে করা যাবে? জানুন শরিয়াহর বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

তালাকের পর কোনো নারী তার আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চাইলে কী করতে হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষ করে স্ত্রী নিজে ডিভোর্সের উদ্যোগ নিলে এবং পরে অন্যত্র বিয়ের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতী তাওহীদুল ইসলাম বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

প্রশ্নে বলা হয়, এক নারী দুই সন্তানের মা। তিনি প্রথম স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে চলে যান এবং পরে স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসার পর আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই নারী আবার সেই যুবকের সঙ্গে চলে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন। পরে ফিরে এসে জানান, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি।

 

এরপর একজন আলেমের পরামর্শে ওই নারীকে তওবা করিয়ে প্রথম স্বামীর সঙ্গে নতুন দেনমোহরে আবার বিয়ে দেওয়া হয়। প্রশ্ন হলো, এভাবে বিয়ে দেওয়া শরিয়াহসম্মত হয়েছে কি না।

 

জবাবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে প্রথম স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী কীভাবে তালাক গ্রহণ করেছিলেন তার ওপর। এ ক্ষেত্রে কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটি আগে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি কতটি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া না থাকলে শুধু তার পক্ষ থেকে ডিভোর্স লেটার পাঠানোর মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী তালাক কার্যকর হবে না। সে ক্ষেত্রে প্রথম বিবাহই বহাল থাকবে। তাই প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে নতুন করে বিয়েরও প্রয়োজন হবে না। তবে ওই অবস্থায় অন্য পুরুষের সঙ্গে করা পরবর্তী বিয়েটিও সহিহ হবে না।

 

অন্যদিকে, স্ত্রীকে যদি তালাক গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সেই ক্ষমতার সীমার মধ্যেই তালাক গ্রহণ করতে পারবেন। ডিভোর্স লেটারে তিনি যতটি তালাক গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন, ততটিই কার্যকর হবে—অবশ্যই প্রদত্ত অধিকারের সীমার মধ্যে।

 

এ ক্ষেত্রে প্রথম স্বামীর তালাকের পর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে অন্য কাউকে বিয়ে করলে সেই বিয়ে সহিহ হবে না। আর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে বিয়ে করলে তা সহিহ হতে পারে।

 

পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ওই নারীকেও দ্বিতীয় বিবাহের পর নির্ধারিত ইদ্দত পালন করতে হবে। এরপর প্রথম স্বামীর পক্ষ থেকে তিন তালাক সম্পন্ন না হয়ে থাকলে নতুন দেনমোহর নির্ধারণ করে পুনরায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে।

 

মুফতি তাওহীদুল ইসলামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীকে যতটি তালাক গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সর্বোচ্চ ততটিই তিনি নিজের ওপর কার্যকর করতে পারবেন। যেমন, তাকে তিন তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া থাকলে তিনি চাইলে এক বা দুই তালাকও গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু নির্ধারিত অধিকারের চেয়ে বেশি তালাক গ্রহণের কথা উল্লেখ করলে অতিরিক্ত অংশ কার্যকর হবে না।

 

সুতরাং এ ধরনের ঘটনায় শুধু নতুন দেনমোহর নির্ধারণ করে আগের স্বামীকে পুনরায় বিয়ে করলেই বিষয়টির শরিয়াহগত সমাধান হয়েছে কি না—তা নির্ভর করবে আগের তালাকের বৈধতা, তালাক গ্রহণের ক্ষমতা, ইদ্দত এবং পরবর্তী বিবাহের অবস্থার ওপর।

এসআর

সম্পর্কিত খবর