মানুষের জীবনের ব্যস্ততা, অর্থ-সম্পদ, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাঝে আখিরাতের ভাবনা
অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। অথচ পবিত্র কোরআন বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে এই পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং একদিন প্রত্যেককেই আল্লাহর সামনে জবাবদিহির জন্য দাঁড়াতে হবে। কোরআনের ১০১তম সুরা ‘কারিয়াহ’ মানুষের সেই চূড়ান্ত দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মাত্র ১১ আয়াতের এই সুরায় কিয়ামতের ভয়াবহতা, মানুষের অসহায়ত্ব এবং আমলের ওজনের ভিত্তিতে তাদের পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
‘কারিয়াহ’ শব্দের অর্থ মহাবিপর্যয় বা প্রচণ্ড আঘাতকারী ঘটনা। সুরার সূচনাতেই পরপর ‘কারিয়াহ’ শব্দটি ব্যবহার করে কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য চিত্রায়িত করা হয়েছে। সেদিন মানুষের অবস্থা হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং সুউচ্চ পাহাড়গুলো ধুনিত পশমের রূপ ধারণ করবে—অর্থাৎ পৃথিবীর সুপরিচিত স্থায়িত্ব ও শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
এই সুরার অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো কিয়ামতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন ও তার জন্য সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ। মানুষের অর্জিত অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদা কিয়ামতের দিন কোনো কাজে আসবে না; সেদিন একমাত্র মূল্যায়ন হবে মানুষের আমলের। তাই জীবনের প্রতিটি কাজের পরকালীন পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
সুরাটি আরও বার্তা দেয় যে, আমলের পাল্লার ওজনই মানুষের চূড়ান্ত সাফল্যের মূল মাপকাঠি। মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, যার ভালো কাজের পাল্লা ভারী হবে, সে লাভ করবে এক সন্তুষ্টিদায়ক জীবন। আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে ‘হাবিয়াহ’ নামক জাহান্নাম। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মানুষের প্রতিটি ছোট-বড় কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামান্য ভেবে ভালো কাজকে অবহেলা করা কিংবা ছোট পাপকে তুচ্ছ জ্ঞান করা মোটেও উচিত নয়।
পরিশেষে, সুরা কারিয়াহ আমাদের পৃথিবীর সাময়িক মোহ থেকে সতর্ক করে। অর্থ-সম্পদ, পদমর্যাদা ও খ্যাতি জীবনের অনুষঙ্গ হতে পারে, তবে তা যেন আখিরাতের মূল প্রস্তুতিকে ভুলিয়ে না দেয়। কারণ একজন মানুষ কত সম্পদ অর্জন করল, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সে তা কীভাবে অর্জন করল এবং কোন পথে ব্যয় করল।
এসআর