প্রকাশিত:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী ছিলেন হজরত আদম (আ.)। তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা
মানবজাতির সূচনা ও হেদায়েতের পথপ্রদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে প্রতিটি যুগে ও সম্প্রদায়ে নবুওয়তের এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যা শেষ হয়েছে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে (যেমন: সূরা নাহল-৩৬, সূরা বাকারা-১২৯, সূরা ফাতির-২৪, সূরা রাদ-৭ এবং সূরা গাফির-৭৮) আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি জাতির কাছেই সতর্ককারী ও পথপ্রদর্শক হিসেবে রাসূল পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ কেবল আরবেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য নবী-রাসূলদের প্রেরণ করেছিলেন।
অনেকের মনে ধারণা হতে পারে যে প্রায় সব নবীই হয়তো আরব অঞ্চলের ছিলেন, তবে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধারণাটি সঠিক নয়। পবিত্র কুরআনে যে ২৫ জন নবীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চল যেমন—মিশর, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবাননের। কুরআনে বর্ণিত এই ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন নবী মূল আরব ভূখণ্ডের ছিলেন। সহীহ ইবনে হিব্বানের এক হাদিসে রাসূল (সা.) নিশ্চিত করেছেন যে, আরব অঞ্চলের ৪ জন নবী হলেন—হজরত হুদ (আ.), হজরত সালেহ (আ.), হজরত শুআইব (আ.) এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ ছাড়া ইতিহাস অনুযায়ী অন্যান্য নবীদের আগমন ঘটেছিল পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে; এমনকি হজরত আদম (আ.) ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ভারতেও আগমন ঘটেছিল। সুতরাং, সব নবীই আরব ছিলেন—এই ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে ভুল।
এসআর