মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হয় এবং সব পথ বন্ধ বলে মনে হয়। মুমিন মুসলমানের জন্য এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই হলো মুক্তির একমাত্র উপায়।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে এমন দিশেহারা সময়ে ৪টি বিশেষ আমল আলোর নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে:
১. অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পাঠ:
আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার করলে শুধু গুনাহ মাফ হয় না, বরং এটি বিপদ থেকে মুক্তির অন্যতম চাবিকাঠি। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার পড়বে, আল্লাহ তাকে সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। এর জন্য 'আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া-আতুবু ইলাইহি' বা 'সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার' বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।
২. রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ:
নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা আল্লাহর নির্দেশ, যা বান্দার ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল করে। নিয়মিত দরুদ পাঠ করলে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং মনের নেক মকসুদ পূরণ হয়। হাদিস অনুযায়ী, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ ১০ বার রহমত নাজিল করেন এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। ছোট দরুদ হিসেবে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' নিয়মিত পড়া যায়।
৩. দোয়া ইউনুস পাঠ:
বিপদ-আপদ ও কঠিন মুসিবতে দোয়া ইউনুস অত্যন্ত কার্যকরী। সুরা আম্বিয়ার ৮৭ নম্বর আয়াতের এই অংশটি হলো— 'লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন'। রাসুল (সা.) বলেছেন, মাছের পেটে থাকা অবস্থায় ইউনুস (আ.) এই দোয়া করেছিলেন। কোনো মুসলিম যখনই এই দোয়া করে, আল্লাহ অবশ্যই তার ডাক কবুল করেন।
৪. ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া:
আল্লাহর মহান ও সম্মানিত নামসমূহ বা ইসমে আজমের উসিলায় দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আল্লাহর একত্ববাদ ও গুনাগুন উল্লেখ করে 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা বি-আন্নাকা আংতাল্লাহ...' দোয়াটি পড়লে আল্লাহ বান্দার প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার করে তাঁর সাহায্য চাইলে তিনি অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
এসআর