[email protected] শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ভালো কাজের জন্য চাঁদাবাজি: ইসলাম কী বলে?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৩৮ এএম

আর্তমানবতার সেবা বা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম মহৎ কাজ। তবে এই মহৎ কাজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গৃহীত পদ্ধতিটিও অবশ্যই সৎ এবং ইসলামি শরিয়তসম্মত হতে হবে। সম্প্রতি অসহায় মানুষকে সহযোগিতার নামে বিত্তবানদের কাছ

 থেকে চাঁদা আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইসলামি চিন্তাবিদরা এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

​অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের ভার বহন করা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। হজরত খাদিজা (রা.) নবীজির গুণগান করতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করেন। সুতরাং, দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

​সাহায্য করার নিয়ত ভালো হলেও 'চাঁদাবাজি' কোনোভাবেই শরিয়তসম্মত পন্থা নয়। এর কারণগুলো হলো:

​আন্তরিক সন্তুষ্টির অভাব: চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত স্বতঃস্ফূর্তভাবে টাকা দেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব বা চক্ষুলজ্জার ভয়ে টাকা দিতে বাধ্য হয়।

​হাদিসের বিধান: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, "কারও সম্পদ তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো জন্য হালাল নয়" (মুসনাদে আহমাদ)।

​জোরজবরদস্তি: যদি কোনো ব্যক্তি চাপের মুখে পড়ে দান করেন, তবে সেই অর্থ দিয়ে করা সাহায্য ইসলামি দৃষ্টিতে বৈধতা পায় না।

​অসহায় মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বিকল্প ও সঠিক পথের পরামর্শ দিয়েছেন:

​১. উন্মুক্ত আহ্বান: অসহায়দের কষ্টের কথা জানিয়ে বিত্তবানদের কাছে উন্মুক্ত আবেদন জানানো যেতে পারে।

২. স্বেচ্ছায় দান: কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি বা লজ্জা না দিয়ে কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় অর্থ প্রদান করে, তবে সেই অর্থ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ।

৩. স্বচ্ছতা: সংগৃহীত অর্থ সঠিকভাবে অসহায়ের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

​পরিশেষে, ভালো কাজের জন্য অবৈধ বা প্রশ্নবিদ্ধ পথ বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। দান বা সহযোগিতার মূল ভিত্তি হতে হবে দাতার আন্তরিক ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর