নিয়মিত তিন বেলা খাবার খাওয়ার পরও যদি টয়লেটে অতিরিক্ত সময় কাটাতে হয়, পেট ভারী
থাকে কিংবা খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে, তবে তা শরীরে ফাইবারের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। প্রোটিন বা ভিটামিনের মতো ফাইবার নিয়ে খুব একটা আলোচনা না হলেও, দৈনন্দিন হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমাদের প্রতিদিনের খাবারে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পরিশোধিত শস্যের আধিক্য থাকায় ফাইবারের ঘাটতি দেখা দেয়। পেয়ারা, ডাল, ছোলা, ওটস বা বাদামের মতো সহজলভ্য খাবার দিয়েই ফাইবারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
দৈনন্দিন জীবনে ফাইবারের অভাব বুঝবেন যে পাঁচটি লক্ষণ দেখে:
১. কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হওয়া: বেশ কিছুদিন ধরে মলত্যাগ স্বাভাবিক বা আরামদায়ক না হলে খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া দরকার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন প্রায় ২২-৩৪ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত, যা মলের পরিমাণ বাড়িয়ে বর্জ্য সহজে বের হতে সাহায্য করে।
২. মল শক্ত হওয়া এবং বের হতে কষ্ট হওয়া: মল শুষ্ক, শক্ত বা ছোট টুকরো আকারে বের হলে বুঝতে হবে কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে। ফাইবার মলে পানি ধরে রেখে তা নরম করতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়।
৩. টয়লেটে অতিরিক্ত চাপ দিতে হওয়া: নিয়মিত মলত্যাগের জন্য জোর দিতে হলে, দীর্ঘ সময় কাটালে বা কষ্ট হলে বিষয়টি এড়িয়ে চলা ঠিক নয়। ফাইবারের অভাবে মল শক্ত হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার ফলে হেমোরয়েড বা পাইলসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৪. খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা পাওয়া: পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবারে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে না। ফাইবারসমیر খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। সেজন্য ডায়েটে সালাদ, শাক-সবজি, ডাল, শিম জাতীয় বীজ ও ফলমূল রাখা জরুরি।
৫. বারবার পেট ফাঁপা বা পেটে অস্বস্তি হওয়া: ফাইবারের অভাবে পরিপাকতন্ত্রে অস্বস্তি হতে পারে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে যা অন্ত্রের জন্য সহায়ক। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফাইবার না খেয়ে ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে, অন্যথায় গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।
এইচ/এম