[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩

গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে যে খাবারগুলো খাওয়া জরুরি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহ নিয়ে গঠিত প্রথম ট্রাইমেস্টারটি শিশুর বিকাশের জন্য অত্যন্ত

 গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই শুরুর সপ্তাহগুলোতে শিশুর মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হৃদপিণ্ড এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হতে শুরু করে। সুষম খাদ্যাভ্যাস এই বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি মায়ের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় পুষ্টির অর্থ দুজন মানুষের সমান খাওয়া নয়; বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার নির্বাচন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা।

​মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের বিকাশের জন্য ফলিক অ্যাসিড

গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো ফলিক অ্যাসিড। জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে সাহায্য করে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

​কী খাবেন: সবুজ শাক-সবজি, শিম জাতীয় বীজ, ডাল, লেবুজাতীয় ফল এবং ফর্টিফাইড সিরিয়াল বা শস্যজাতীয় খাবার।

​পরামর্শ: গর্ভবতী বা পরিকল্পনাধীন নারীদের সাধারণত প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিডযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

​রক্ত তৈরিতে সহায়তার জন্য আয়রন

শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির মাধ্যমে আয়রন রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধ করে, যা ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

​কী খাবেন: ডাল, ছোলা, শিম জাতীয় বীজ, পালং শাক, চর্বিহীন মাংস এবং আয়রনসমৃদ্ধ সিরিয়াল।

​পরামর্শ: উদ্ভিজ্জ আয়রন শোষণের জন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার (আমলকী, কমলা, পেয়ারা বা টমেটো) খান। আয়রন গ্রহণের সময় চা বা কফি পান করা এড়িয়ে চলুন।

​বৃদ্ধি ও টিস্যু গঠনের জন্য প্রোটিন

প্রোটিন শিশুর কোষ ও টিস্যুর বৃদ্ধিতে এবং মায়ের শরীরের টিস্যুগুলোকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

​কী খাবেন: ডিম, দুধ, দই, পনির, ডাল, মটরশুঁটি, টোফু, বাদাম, বীজ এবং ভালোভাবে রান্না করা মাছ বা চর্বিহীন মাংস।

​হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম

শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনে এবং মায়ের হাড়ের স্বাস্থ্য ও স্নায়ুর কার্যকারিতা রক্ষায় ক্যালসিয়াম অপরিহার্য।

​কী খাবেন: দুধ, দই, পনির, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ উদ্ভিদ-ভিত্তিক দুধ, তিল এবং টোফু।

​হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং হাড়ের গঠনে অবদান রাখে।

​কী খাবেন: ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ, ফর্টিফাইড খাবার এবং ভিটামিন ডি যুক্ত দুধ।

​মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য আয়োডিন

থাইরয়েড হরমোন তৈরির মাধ্যমে আয়োডিন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

​কী খাবেন: পরিমিত আয়োডিনযুক্ত লবণ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম এবং সামুদ্রিক খাবার।

​ভিটামিন বি১২ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষ করে ডিএইচএ) শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে সাহায্য করে। কম পারদযুক্ত তৈলাক্ত মাছ বা শৈবাল থেকে তৈরি ডিএইচএ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

​তরল খাবার, ফাইবার এবং খাদ্য নিরাপত্তা

শুরুর দিকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পানি, স্যুপ, ফলমূল, শাক-সবজি এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। ফল ও শাক-সবজি ভালোভাবে ধুয়ে, ডিম ও মাংস পুরোপুরি রান্না করে খেতে হবে। পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য এবং কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল বর্জন করুন এবং ক্যাফেইন গ্রহণ দিনে ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

​বমি বমি ভাব বা অন্য কোনো জটিলতায় খাওয়া কঠিন হলে বা ওজন কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর