[email protected] সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভরা পেটে গ্রিন টি পানের অভ্যাস কি ক্ষতিকর?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

গ্রিন টি বা সবুজ চা চমৎকার স্বাস্থ্যগুণ ও প্রাচুর্যময় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্য অত্যন্ত

 জনপ্রিয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীর সতেজ রাখতে নিয়মিত গ্রিন টি পানের জুড়ি নেই। তবে পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের বা রাতের খাবারের ঠিক পরপরই গ্রিন টি পান করার অভ্যাস শরীরকে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস কিছুটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

​কেন খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি আয়রন শোষণে বাধা দেয়?

​বিভিন্ন গবেষণা ও 'ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্টস' জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে 'পলিফেনল' এবং 'ট্যানিন' নামক উপাদান থাকে। আমরা যখন খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করি, তখন এই উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রে খাবারের আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে শরীর সেই আয়রন সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না।

​বিশেষ করে উদ্ভিদজাত খাবার (যেমন: মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি, বীজ ইত্যাদি) থেকে প্রাপ্ত নন-হিম (Non-heme) আয়রনের শোষণকে গ্রিন টি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। তবে মাছ-মাংসের হিম (Heme) আয়রনের ওপর এর প্রভাব কিছুটা কম।

​কাদের বেশি সতর্ক হওয়া উচিত?

​যাদের শরীরে আয়রনের পর্যাপ্ত সঞ্চয় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পর মাঝে মাঝে গ্রিন টি পান করলেও বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে নিচের শ্রেণিসমূহের মানুষের জন্য পানের সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি:

​নিরামিষভোজী: যারা প্রোটিন ও আয়রনের জন্য কেবল উদ্ভিদজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল।

​অ্যানিমিয়া বা কম ফেরিটিনের রোগী: যাদের শরীরে ইতোমধ্যে রক্তের হিমোগ্লোবিন বা আয়রনের সঞ্চয় কম।

​অতিরিক্ত রক্তস্রাবের মুখোমুখি নারী: যাদের অনিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তপাতের ইতিহাস রয়েছে।

​গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়রনের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়।

​খাবার ও গ্রিন টি পানের মধ্যবর্তী ব্যবধান কতটুকু হওয়া উচিত?

​বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, গ্রিন টি খাওয়া বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; কেবল এর সময়টিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই চলবে। মূল খাবার (দুপুর বা রাতের খাবার) খাওয়ার পর কমপক্ষে ১ থেকে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্রিন টি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম।

​একই নিয়ম অন্যান্য সাধারণ চা ও কফির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কারণ সেগুলোতে থাকা পলিফেনলও আয়রন শোষণে একই ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে যারা আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন, তাদেরও ওষুধ সেবনের কাছাকাছি সময়ে চা-কফি পরিহার করা উচিত।

​আয়রন শোষণ বাড়াতে করণীয়:

​১. ভিটামিন সি যুক্ত করা: উদ্ভিজ্জ খাবার খাওয়ার সময় তার সাথে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাদ্য (যেমন: লেবু, আমলকী, পেয়ারা, টমেটো) যুক্ত করলে তা আয়রন শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

২. খাবারের বৈচিত্র্য: খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল, বীজ ও শাকসবজি নিয়মিত রাখা।

৩. খাবারের মাঝে পান করা: মূল খাবারের ঠিক পরপর না খেয়ে, দুটি প্রধান খাবারের মধ্যবর্তী বিরতিতে (যেমন: বৈকালের নাশতার সময়ে) গ্রিন টি উপভোগ করা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর