[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

৬০ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে যে ৭টি খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া জরুরি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মতোই বয়স্কদেরও শারীরিক যত্ন ও খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ

 নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় মুখরোচক বা সুস্বাদু মনে হলেও বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন কিছু খাবার শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রবীণ বয়সে সুস্থ, সবল ও দীর্ঘমেয়াদে রোগমুক্ত থাকতে ৭টি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা—

​১. প্রক্রিয়াজাত মাংস:

​প্রক্রিয়াজাত মাংসে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ও কৃত্রিম সংরক্ষণকারী (প্রিজারভেটিভ) উপাদান থাকে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রক্রিয়াজাত মাংস বাদ দিয়ে তাজা মুরগির মাংস, মাছ কিংবা উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন খাওয়া উচিত। খাবারে স্বাদ আনতে লবণ ও কেমিক্যালের বদলে তাজা মসলা ব্যবহার করা উত্তম।

​২. মিষ্টি ও কোমল পানীয়:

​অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা সোডা দ্রুত তৃষ্ণা মেটালেও এতে উচ্চ মাত্রার ক্যালোরি থাকে, যা ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীর হয়ে আসে। তাই মিষ্টি পানীয়ের বদলে সাধারণ পানি, ফলের টুকরো বা ভেষজ মেশানো পানি কিংবা চিনি ছাড়া ভেষজ চা পান করা স্বাস্থ্যকর।

​৩. সাদা পাউরুটি:

​সহজলভ্য হলেও সাদা পাউরুটিতে বয়স্কদের উপযোগী প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে না। এর উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে লাল আটার হোল-গ্রেইন বা পূর্ণ শস্যের খাবার খাওয়া উচিত, কারণ এতে থাকা ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।

​৪. অতিরিক্ত ভাজা পোড়া খাবার:

​ডিপ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে, যা হৃদপিণ্ড ও ওজনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার বেক বা গ্রিল করে খেলে এর পুষ্টি ও স্বাদ উভয়ই বজায় থাকে।

​৫. ফুল ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য:

​ফুল ফ্যাটযুক্ত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে স্যাচুরেটেড চর্বি বেশি থাকে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য কিংবা সয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক বা ওট মিল্ক বেছে নেওয়া নিরাপদ।

​৬. অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণাক্ত খাবার:

​ক্যানজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে। তাই বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে ঘরে তৈরি তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

​৭. পেস্ট্রি এবং কেক:

​কেক ও পেস্ট্রিতে বিপুল পরিমানে চিনি ও ক্ষতিকর চর্বি থাকে, যা রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং স্থূলতার সৃষ্টি করে। মিষ্টির প্রতি লোভ সামলাতে কেক-পেস্ট্রির বদলে তাজা ফল বা দই খাওয়া যেতে পারে। বেকিং করতে চাইলে তাতে প্রাকৃতির উপাদান ও কম চিনি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর