জটিলতামুক্ত গর্ভাবস্থায় হালকা হাঁটা, সাঁতার বা প্রসবপূর্ব যোগব্যায়ামের মতো মাঝারি ধরনের
ব্যায়াম হবু মায়ের ফিটনেস ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে গর্ভকালীন শারীরিক পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় শরীর অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিয়ে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করার সময় নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা অবিলম্বে থামিয়ে দেওয়া উচিত। নিচে ব্যায়াম বন্ধ করার প্রধান সতর্কতাগুলো আলোচনা করা হলো:
যোনিপথে রক্তপাত বা তরল নিঃসরণ: ব্যায়ামের সময় বা ঠিক পরপর যোনিপথে রক্তপাত কিংবা তরল নিঃসরণ দেখা দিলে তা সাধারণ অস্বস্তি হিসেবে নেওয়া যাবে না। এটি জরায়ুর ঝিল্লি ফেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমনটা ঘটলে অবিলম্বে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মাথা ঘোরা ও জ্ঞান হারানোর অনুভূতি: ব্যায়ামের ফলে রক্তচাপ ও রক্তপ্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে অতিরিক্ত মাথা ঘোরা, মাথা হালকা লাগা বা জ্ঞান হারানোর মতো উপশম দেখা দিলে ব্যায়াম চালিয়ে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে বসে বা শুয়ে পড়তে হবে। সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বুকে ব্যথা বা তীব্র শ্বাসকষ্ট: গর্ভকালীন সময়ে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হতে পারে, তবে হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা বুকে ব্যথা অনুভব করা স্পষ্ট সতর্ক সংকেত। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে তৎক্ষণাৎ ব্যায়াম বন্ধ করা উচিত।
নিয়মিত বা বেদনাদায়ক সংকোচন: পেটে নিয়মিত বিরতিতে বেদনাদায়ক সংকোচন হওয়া বা পেট শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ৩৭ সপ্তাহের আগে এ ধরনের লক্ষণ অকাল প্রসবের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই ব্যায়াম বন্ধ করার পরেও সংকোচন অব্যাহত থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া: গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক নড়াচড়ার ধরণ মায়ের কাছে পরিচিত থাকে। ব্যায়ামের সময় বা পরে যদি শিশুর নড়াচড়া হঠাৎ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যায়াম থামিয়ে মনোযোগ দিতে হবে এবং নড়াচড়া স্বাভাবিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তীব্র মাথাব্যথা বা হঠাৎ ফোলাভাব: ব্যায়ামের সময় হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, মুখ বা হাতে আকস্মিক ফোলাভাব, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ দেখা দিলে তা প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গর্ভাবস্থার জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবিলম্বে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
এসআর