[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডে বাল্যবিয়ের শিকার এক কন্যাশিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আজ ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস।

মেয়েদের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা এবং কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডে একজন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। এতে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

 

জাতিসংঘের নির্ধারিত ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো—‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’। কন্যাশিশু, অধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রতিপাদ্যটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, বাল্যবিয়ের বড় একটি অংশ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘটে। বিশেষ করে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার দেশগুলোতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ওই অঞ্চলে প্রায় ৩১ শতাংশ কন্যাশিশুর বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই হয়ে যায়।

 

বাল্যবিয়ের প্রভাব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে

অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক মেয়ের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিষণ্নতা, মানসিক চাপ এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিশোরীদের সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে শিক্ষা বিস্তার, আইন প্রণয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগের ফলে আনুমানিক ৬ কোটি ৮০ লাখ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

 

বাল্যবিয়ে বন্ধে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে মেয়েদের নেতৃত্বের বিকাশ এবং নিজেদের জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

জলবায়ু সংকটেও বাড়ছে ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘বিশ্বের কন্যাশিশুদের অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণায় পাঁচ হাজার কিশোরী ও তরুণীর মতামত নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, পরিবেশগত পরিবর্তন ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, বাল্যবিয়ে ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে।

 

যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী সম্মেলন কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

 

জাতিসংঘের মতে, কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা শুধু নিজেদের জীবনেই নয়, পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর