[email protected] বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

দিনভর কাজের ব্যস্ততা শেষে বিছানায় গেলেও অনেকের সহজে ঘুম আসে না। কর্মক্ষেত্রের চাপ

 ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে রাতের বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলে শরীর ও মনকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব।

​জেনে নিন ঘুমানোর আগে যে ৮টি অভ্যাস আপনাকে ভালো ঘুম পেতে সাহায্য করতে পারে:

​১. স্ক্রিন ব্যবহার কমান

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশনের ব্যবহার বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

​২. কয়েক মিনিট মেডিটেশন করুন

ঘুমের আগে কিছু সময় ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস মনকে শান্ত করে এবং দ্রুত ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে।

​৩. নিজের জন্য সময় রাখুন

ব্যস্ত দিনের শেষে নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করুন। হালকা গরম পানিতে গোসল শরীরকে আরাম দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের যত্নের মতো ছোটখাটো রুটিনও মনকে প্রশান্ত করতে সহায়ক হয়।

​৪. হালকা স্ট্রেচিং করুন

সারাদিন বসে কাজ করলে শরীরের বিভিন্ন অংশে টান বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ কিছু যোগব্যায়াম শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। তবে কায়িক পরিশ্রমের বা অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য ব্যায়াম এ সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।

​৫. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়িকে (বায়োলজিক্যাল ক্লক) সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত রুটিন ভালো ঘুমের অন্যতম প্রধান শর্ত।

​৬. দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন

ঘুমাতে যাওয়ার আগে কাজ, পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই শোয়ার আগে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। মেডিটেশন বা ধীর শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

​৭. ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন

ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘর ঠান্ডা, নীরব ও অন্ধকার রাখা প্রয়োজন। উজ্জ্বল আলো কমিয়ে নরম আলো ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছানো পরিবেশ ঘুমের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​৮. ঘুমকে গুরুত্ব দিন

ঘুমকে শুধু দিনের সমাপ্তি নয়, বরং শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবনের সময় হিসেবে দেখতে হবে। প্রতিদিন একই ধরনের শান্ত ও স্বস্তিদায়ক রুটিন অনুসরণ করলে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে শেখে।

​তবে মনে রাখতে হবে, এসব অভ্যাস সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। পর্যাপ্ত চেষ্টা করার পরও যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর