নিয়মিত গরুর মাংস, খাসির মাংস, সসেজ কিংবা নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রভাব
কেবল ওজন বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল বা কোলন ও মলদ্বারের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মাঝে মধ্যে মাংস খেলেই ক্যান্সার হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগ হলো দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিয়ত ও উচ্চ পরিমাণে এসব মাংস খাওয়া, বিশেষ করে প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত মাংস।
রেড মিট ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কী?
ক্যান্সারের ঝুঁকি এবং গবেষণার তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অধীনস্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার' (IARC)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী:
উল্লেখ্য, এই হিসাবগুলো কেবল আপেক্ষিক ঝুঁকির পরিমাপ প্রকাশ করে। তাই এটিকে সরাসরি ব্যক্তিবিশেষের নির্দিষ্ট ঝুঁকিমাত্রা হিসেবে গণ্য করা ভুল হবে।
রান্না ও প্রক্রিয়াজাতকরণের রসায়ন
কিউরিং বা স্মোকিংয়ের মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির কারণে এন-নাইট্রোসো যৌগের মতো ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস গ্রিল, বারবিকিউ বা প্যান-ফ্রাই করলে হেটেরোসাইক্লিক অ্যারোমেটিক অ্যামাইন ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
মাংস খাওয়া কি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে?
একদমই নয়। রেড মিটে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, জিংক এবং ভিটামিন বি-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, লাল মাংস একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমিতি বজায় রাখা। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত মাংস বাদ বা কম রেখে শাকসবজি ও উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার বাড়াতে পারলে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
এসআর