অনেকেরই ভাজাপোড়া ও মুখরোচক খাবার প্রিয়। তবে নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস
ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাড়তি ওজন কমাতে কেবল খাওয়ার পরিমাণ কমানো নয়, বদলাতে হবে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাভিত্তিক নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান ও ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক আলিসা প্যালাডিনোর মতে, পছন্দের খাবার পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করেও কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে সহজে ওজন কমানো সম্ভব। কারণ কোনো খাবার একেবারে বাদ দিলে সেটি খাওয়ার স্পৃহা আরও বেড়ে যেতে পারে।
ওজন কমানোর ৫টি কার্যকর কৌশল:
১. পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন
প্রোটিন, ফাইবার বা আঁশ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
বাদাম, ভাজা ছোলা, পনির, ডাল দিয়ে তৈরি চিপস ও গ্রিক দই।
গাজর, শসা, ক্যাপসিকাম, আঙুর ও স্ট্রবেরির মতো তাজা ফলমূল ও সবজি।
এছাড়া সবজি বা চিপসের সঙ্গে অ্যাভোকাডার গুয়াকামোলে কিংবা ছোলার হুমাস খাওয়া যেতে পারে।
২. কম ক্যালরিতে বেশি পরিমাণে খান
দীর্ঘক্ষণ আড্ডা বা বিনোদনের সময় বারবার খাওয়ার ইচ্ছে হলে কাটা ফল, কাঁচা সবজি ও পপকর্ন বেছে নেওয়া ভালো। যেমন—তেল ছাড়া গরম বাতাসে তৈরি তিন কাপ পপকর্নে ঠিক একমুঠো চিপসের সমান ক্যালরি থাকে। ভুট্টার আঁশ পেট ভরা রাখতে দারুণ কার্যকরী। তবে প্যাকেটজাত পপকর্ন কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।
৩. পছন্দের খাবার খান পরিমিত পরিমাণে
ওজন কমাতে পিৎজা বা চিকেন উইংসের মতো খাবার পুরোপুরি ছাড়তে হবে না। বরং পছন্দের এক বা দুই টুকরা পিৎজা খেয়ে সঙ্গে ফল বা সবজি রাখুন। চিপস খাওয়ার সময় সরাসরি প্যাকেট থেকে না খেয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি প্লেটে তুলে নিন। মূল কথা হলো—খাবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
৪. খাওয়ার আগে পরিকল্পনা করুন
সামনে খাবার থাকলে অনেক সময় ক্ষুধা না থাকলেও খাওয়া হয়ে যায়। এই অভ্যাস এড়াতে আড্ডা বা বিনোদনে যোগ দেওয়ার আগে সুষম খাবার খেয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া সঙ্গে ফল বা সবজি রাখা এবং আগে থেকেই নির্দিষ্ট করা উচিত যে কোন খাবার কতটুকু খাওয়া হবে। খাওয়ার সময় নিজের ক্ষুধার মাত্রা সচেতনভাবে অনুধাবন করুন।
৫. স্বাস্থ্যকর ও সহজ ৫টি স্ন্যাকস
ডায়েটিশিয়ান আলিসা প্যালাডিনো ওজন কমাতে ৫ ধরনের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের কথা বলেছেন:
আপেল ও দইয়ের মিশ্রণ: টক বা মিষ্টি দইয়ে সামান্য পিনাট বাটার মিশিয়ে আপেলের টুকরার সঙ্গে খাওয়া।
টমেটো ও পনিরের নাশতা: টমেটোর টুকরার সঙ্গে মোজারেলা পনির কাঠিতে গেঁথে পরিবেশন করা।
শসা বা গাজরের সঙ্গে অ্যাভোকাডার ভর্তা: অ্যাভোকাডা চটকে সামান্য মসলা মিশিয়ে শসা, গাজর বা ক্যাপসিকামের সঙ্গে খাওয়া।
শসার সঙ্গে পালংশাকের মিশ্রণ: পালংশাক ও আর্টিচোকের তৈরি ঘন মিশ্রণে শসার টুকরো ডুবিয়ে খাওয়া।
রসুন ও পনির মেশানো পপকর্ন: ঘরে তৈরি পপকর্নে অতিরিক্ত মাখন-লবণ না দিয়ে সামান্য রসুনের গুঁড়া ও পারমেজান পনির মিশিয়ে নেওয়া।
ছোট ছোট এবং সচেতন পরিবর্তনের মাধ্যমেই খাবারের ওপর অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা বিধিনিষেধ ছাড়াই ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
এসআর