রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক দেখালেও শরীরে অন্য কোনো পুষ্টির
ঘাটতি রয়ে যেতে পারে। ভারতীয় পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহে মোট আয়রনের সঞ্চয় ঠিক কতটা রয়েছে, সে সম্পর্কে সঠিক ও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য ‘ফ্যারিটিন’ পরীক্ষা করা বেশ জরুরি।
অনেকে মনমেজাজ খারাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা অস্থিরতার মতো অনুভূতিকে শুধুই মানসিক চাপের কারণ বলে উড়িয়ে দেন। তবে শরীরে গচ্ছিত আয়রনের পরিমাণ কমে গেলেও ক্লান্তি, মানসিক অস্বস্তি কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হিমোগ্লোবিন ও ফ্যারিটিনের মূল পার্থক্য
হিমোগ্লোবিন এবং ফ্যারিটিন মূলত দুইটি ভিন্ন বিষয়কে নির্দেশ করে।
পুষ্টিবিদরা এটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন—হিমোগ্লোবিন হলো আপনার মানিব্যাগে থাকা চলতি নগদ টাকা, আর ফ্যারিটিন হলো ব্যাংকে জমা থাকা গচ্ছিত অর্থ। অর্থাৎ, মানিব্যাগে ক্যাশ (হিমোগ্লোবিন) থাকলেও ব্যাংকে জমানো টাকা (ফ্যারিটিন) কম বা শূন্য হতে পারে।
ঘুম ও মস্তিষ্কের ওপর আয়রনের প্রভাব
স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মস্তিষ্কের সুস্থ ও স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য আয়রন অত্যন্ত অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতে সাহায্য করে।
কেবল হিমোগ্লোবিনের ওপর নির্ভরতা কতটা যুক্তিযুক্ত?
সুতরাং, শুধু হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক দেখলেই শরীরে আয়রনের অভাব নেই বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে। দীর্ঘকাল ধরে যদি শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকে, চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে কিংবা পায়ে অস্থিরতা অনুভব হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্যারিটিনসহ প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। শরীরে আয়রনের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের জন্য হিমোগ্লোবিনের পাশাপাশি এই সঞ্চিত আয়রনের দিকটি সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এসআর