[email protected] বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবনযাত্রায় ৫টি পরিবর্তন আনলেই কমানো সম্ভব ক্যানসারের ঝুঁকি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:০২ এএম

সংগৃহীত ছবি

ক্যানসার রোগের লক্ষণ শুরুতে সহজে প্রকাশ পায় না, বরং তা ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে।

 দৈনন্দিন কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণে এই মারণব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার পুরোপুরি রোধ করার শতভাগ নিশ্চয়তা না থাকলেও দৈনিক জীবনযাত্রার মাত্র পাঁচটি অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।

​প্রথমত, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইড এবং নাইট্রোসামিনের মতো অন্তত ৭০টিরও বেশি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান (কার্সিনোজেন) থাকে, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধূমপানের মাত্রা একবারে ছাড়া সম্ভব না হলে ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা উচিত।

দ্বিতীয়ত, ঘুমের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানো শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য উপকারী, কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। আলো বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণে বাধা দেয়, অথচ এই হরমোন টিউমার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঠেকায়। তাই অন্ধকার ঘরে পর্যাপ্ত ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো উচিত।

​তৃতীয়ত, খাবার গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা দরকার। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখলে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যা ক্ষতিকর টক্সিন ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকালে নাস্তা করার অভ্যাস এতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

চতুর্থত, প্লাস্টিক ও নন-স্টিক সামগ্রীর ব্যবহার কমাতে হবে। এগুলোতে বিসফেনল-এ, থ্যালেট ও পিএফএএস-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা স্তন, জরায়ু ও থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে প্লাস্টিকের পাত্রের বদলে লোহা বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করা নিরাপদ। সবশেষে, অ্যালকোহল গ্রহণ বর্জন বা সীমিত করা আবশ্যক। অ্যালকোহল শরীরে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামক বিষাক্ত যৌগে পরিণত হয়ে ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষতি করে এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে স্তন, লিভার, খাদ্যনালি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর