গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে এবং খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রোটিন ও খনিজ
নিশ্চিত করতে হয়। তবে নবম মাসে ঘি খেলে স্বাভাবিক প্রসব হয়—এমন একটি প্রচলিত ধারণা অনেককে বিভ্রান্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়া নিরাপদ হলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। প্রতি ট্রাইমিস্টারে রান্নায় দৈনিক ১ থেকে ২ চা চামচ (প্রতি চা চামচে প্রায় ৪৪ কিলোক্যালরি) ঘি খাওয়াই যথেষ্ট।
ভিটামিন, খনিজ, ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্যতালিকা থাকলে আলাদা করে বাড়তি ঘি খাওয়ার কোনো পুষ্টিগত প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত ঘি খেলে স্থূলতা বা পেটে চর্বি জমতে পারে, যা স্বাভাবিক প্রসব বা সি-সেকশনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে এবং প্রসবের পর ওজন কমানো কঠিন করে দেয়।
স্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ঘি না খেয়ে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন যুক্ত করা উচিত, যেমন: ডিম, দই, পনির, ছোলা ও বিভিন্ন ডাল। পাশাপাশি রক্তাল্পতা দূর করতে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার (সবুজ শাকসবজি, বিটরুট, ডালিম, গুড় ও তিল) এবং ভালো শোষণের জন্য ভিটামিন সি (লেবুর রস) গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রসবের সময় ক্লান্তি এড়াতে ও প্রসব বেদনা স্বাভাবিক রাখতে শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি, তাই প্রতিদিন ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পানের পাশাপাশি ডাবের পানি বা ঘোল খাওয়া উপকারী।
এসআর