ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর ও পেটের সংক্রমণ বাড়লেও আবহাওয়ার
পরিবর্তন সরাসরি এসবের কারণ নয়। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচলের পরিবর্তনের পাশাপাশি বন্ধ ঘরে বেশি সময় কাটানো এবং সহপাঠী ও স্বজনদের কাছাকাছি থাকার কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার সহজ হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ মোসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ লাখ রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিশেষ করে বর্ষাকালে শ্বাসতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। তবে ভিজে যাওয়া বা ঠান্ডা লাগার চেয়ে জনাকীর্ণ স্থান, আক্রান্ত শিশু এবং দূষিত খাবার ও পানিই সংক্রমণের মূল উৎস হিসেবে কাজ করে।
অভিভাবকদের করণীয়:
খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে ফিরে হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো।
ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
বর্ষায় নিরাপদ সুপেয় পানি ও সদ্য প্রস্তুতকৃত খাবারের ব্যবস্থা করা।
সাপ্লিমেন্টের বদলে সুষম খাবার ও প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করা।
শিশু অসুস্থ হলে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোধে তাকে বাড়িতে রাখা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি-কাশি ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া অনুচিত। বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল খাবারেই শিশুরা সাধারণত সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে শ্বাসকষ্ট, ডিহাইড্রেশন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কিংবা অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
এসআর