রাজপথে চলাচল করা বাসের রং সাধারণত নানা ধরনের হয়।
গোলাপি রং ব্যবহারের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে নারী, নিরাপত্তা ও সচেতনতার সঙ্গে এই রঙের একটি প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে নারীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহনকে সহজে আলাদা করে চেনাতে অনেক জায়গায় গোলাপি রং ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) সম্প্রতি নারী যাত্রীদের জন্য ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা। রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও বগুড়াতেও পর্যায়ক্রমে এ সেবা চালু করা হয়েছে।
এই সার্ভিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোলাপি রং নারী অধিকার, সচেতনতা ও নারীর নিরাপত্তার সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত। তাই গণপরিবহনে এ রং ব্যবহার করলে বাসটি নারীদের জন্য নির্ধারিত—এটি সহজেই বোঝানো যায়।
ব্যস্ত সড়ক কিংবা যানজটের মধ্যে দূর থেকেই আলাদা রঙের বাস শনাক্ত করা সহজ। গোলাপি রং ব্যবহারের ফলে নারী যাত্রীরা দ্রুত নির্ধারিত বাসটি চিনে নিতে পারেন।
নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। আলাদা ও দৃশ্যমান রং ব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিবহন ব্যবস্থা যে বিশেষভাবে নারীদের কথা বিবেচনা করে পরিচালিত হচ্ছে, সে বার্তাও দেওয়া হয়।
রাস্তায় নিয়মিত গোলাপি রঙের বাস চলাচল করলে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবহারের অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সচেতনতা বাড়তে পারে।
তবে গোলাপি রং নিজে কোনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। নারীদের জন্য গণপরিবহনকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করতে চালক-সহকারী প্রশিক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগের দ্রুত ব্যবস্থা এবং হয়রানি প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি। গোলাপি রং মূলত এই বিশেষ সেবাকে সহজে চেনানোর একটি দৃশ্যমান প্রতীক।
এসআর