উচ্চ কোলেস্টেরলকে একটি নীরব স্বাস্থ্য সমস্যা বলা হয়, কারণ এতে সাধারণত কোনো প্রত্যক্ষ
লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ জমলে তা ধমনীর ভেতরের পথ সংকুচিত করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জিনগত কারণ বা বয়সের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস নীরবে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১. সকালে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া: নাস্তায় মাখন, ঘি, ভাজাপোড়া, পরোটা, সসেজ কিংবা প্রসেসড মাংস নিয়মিত খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ে। খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের নিচে রাখা উচিত।
২. অনিয়ন্ত্রিত স্ন্যাকস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ: বাদাম বা বীজের মতো স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খাওয়া ক্ষতিকর। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্ন্যাকস হিসেবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিস্কুট, কেক ও প্যাকেটজাত নোনতা খাবার খাওয়া—যেগুলোতে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনায় এসব খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফল, হোলগ্রেইন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. দীর্ঘ সময় বসে থাকা: দিনে অল্প সময় শরীরচর্চা করলেও বাকিটা সময় ডেস্কে বা সোফায় বসে কাটালে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায় এবং এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ কমায়। চিকিৎসকদের মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট তীব্র শরীরচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ভাঙা জরুরি।
৪. চিনিযুক্ত পানীয় পান করা: কোল্ড ড্রিঙ্কস, কৃত্রিম ফলের রস, এনার্জি ড্রিঙ্কস বা অতিরিক্ত মিষ্টি চা-কফি সরাসরি চর্বি না বাড়ালেও অতিরিক্ত ক্যালোরি ও ওজন বৃদ্ধির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
৫. ধূমপান ও তামাক সেবন: ধূমপান রক্তনালীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের এনএইচএস (NHS)-এর তথ্যমতে, ধূমপান শরীরের ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।
এসআর