চুলের নিয়মিত ও সঠিক যত্ন নেওয়ার সবচেয়ে সহজ ও ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম হলো তেল মালিশ।
ঘরের বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশাপাশি আধুনিক কেশচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতেও, চুল সুন্দর ও মসৃণ রাখতে তেলের ভূমিকা অপরিসীম। মাথার ত্বকে (স্ক্যাল্প) সঠিকভাবে তেল মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের ফোলিকলগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পেয়ে গোড়া মজবুত করে তোলে। তবে এই সুফল পুরোপুরি পেতে হলে তেলের গুণাগুণের পাশাপাশি এটি ব্যবহারের সঠিক সময় ও সঠিক নিয়ম জানা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল দেওয়ার উপযুক্ত সময় প্রধানত নির্ভর করে চুলের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর। তবে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক হেয়ার কেয়ার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাতের বেলা তেল ম্যাসাজ করা সবচেয়ে কার্যকর। রাতে হালকা গরম তেল মাথায় মালিশ করলে তা স্ক্যাল্পে গভীরভাবে শোষিত হতে পারে। এছাড়া যাদের রাতে তেল মেখে থাকার সময় কম, তারা সকালে গোসল করার ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে তেল ব্যবহার করতে পারেন।
চুলের পরিচর্যায় নারিকেল তেল, আর্গন তেল কিংবা আমলকীর তেলের মতো ভিন্ন ভিন্ন তেলের নিজস্ব কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে। তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের শুষ্কতা দূর করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে এলোমেলো চুল সহজে আঁচড়ানো যায়। একইসঙ্গে তেলে থাকা খনিজ উপাদান, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মাথার ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।
রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গরম তেল দিয়ে আলতোভাবে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করলে স্নায়ু শিথিল হয়, মানসিক ক্লান্তি দূর হয় এবং ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত তেল মেখে ঘুমানো উচিত নয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল দিলে বালিশে থাকা ধুলাবালি চুলে আটকে গিয়ে উল্টো চুলকানি বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সকালে গোসলের ঘণ্টাখানেক বা অন্তত ১৫ মিনিট আগে তেল ম্যাসাজ করা হলে ধুলাবালি আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তেল চুলে একটি প্রতিরক্ষামূলক তৈলাক্ত পরত তৈরি করে, যা গোসলের পর চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে রাখে।
চুল শুকানো কিংবা হালকা ভেজা—উভয় অবস্থাতেই তেল ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহৃত তেলের ঘনত্বের ওপর এটি নির্ভর করে। যেমন—নারিকেল তেলের মতো ভারী ও চটচটে তেল সবসময় শুকানো ও পরিষ্কার চুলে ব্যবহার করাই শ্রেয়। কারণ শুকানো চুল তেলের পুষ্টি উপাদানগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। তাই ভালো ফলাফলের জন্য সর্বদা পরিষ্কার মাথার ত্বকে পরিমিত তেল মালিশ করার পরামর্শ দেন কেশচর্চা শিল্পীরা।
এসআর