[email protected] শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘুমানোর আগে দুধ পান: বিজ্ঞান কী বলে?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ৭:২৩ এএম

সংগৃহীত ছবি

রাতের বেলা ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করার রেওয়াজ বহু পুরনো।

 অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই অভ্যাসটি রাতে চমৎকার ঘুমে সাহায্য করে। তবে এই অভ্যাসের পেছনে কি আসলেই কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে, নাকি এটি কেবলই একটি প্রচলিত ধারণা? পুষ্টি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে জেনে নেওয়া যাক এর আসল কারণ।

​ঘুমের পেছনে দুধের জৈব-রাসায়নিক ভূমিকা

​চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, রাতে দুধ পানের অভ্যাসের পেছনে একটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। দুধে 'ট্রিপটোফ্যান' (Tryptophan) নামের একটি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। মানুষের শরীর এই উপাদানটি ব্যবহার করে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করে, যা মূলত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও দুধ সরাসরি কোনো শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের মতো কাজ করে না, তবে এর মৃদু জৈব-রাসায়নিক প্রভাব শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

​মনস্তাত্ত্বিক সংকেত ও ঘুমের রুটিন

​দুধের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এই নিয়মিত অভ্যাসটির একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকা রয়েছে। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে একটি নির্দিষ্ট সময়ে হালকা গরম পানীয় গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক একটি সংকেত পায় যে—এবার দিন শেষ এবং বিশ্রামের সময় হয়েছে। গবেষকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রে দুধের ভেতরের উপাদানের চেয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক সংকেত বা ধারাবাহিক ঘুমের রুটিনটি বেশি কার্যকরী হিসেবে কাজ করে।

​কাদের জন্য রাতে দুধ পান ক্ষতিকর হতে পারে?

​উপকারী হলেও রাতে দুধ পান সবার স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু সমস্যায় এটি হিতে বিপরীত হতে পারে:

​ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স: যাদের দুধ হজমে সমস্যা হয়, তাদের পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে, যা উল্টো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

​দুধে অ্যালার্জি: যাদের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।

​অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তারা রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খেলে বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি বাড়তে পারে।

​অতিরিক্ত পরিমাণ: ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে বড় এক গ্লাস দুধ পান করলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে, যা গভীর ঘুমে বাধা দেয়।

​রাতে দুধ পানের উপকারিতা পেতে হলে ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে পরিমিত পরিমাণে দুধ পান করা উচিত। কোনো রকম চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভার ছাড়া সাধারণ দুধ বেছে নেওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ চিনিযুক্ত দুধ শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি যোগ করে ক্ষতি করতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর