বর্ষার মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ অনেকের মনেই হঠাৎ এক ধরনের বিষণ্ণতা বা
অবসাদ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের মানসিক অবস্থার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন যেখানে মনে ইতিবাচকতা ও সতেজতা বাড়ায়, সেখানে একটানা মেঘলা আবহাওয়া বা বাদলা দিন মানুষের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন বর্ষায় মন খারাপ হয়?
হরমোনের তারতম্য: বৃষ্টির দিনে পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে মানবশরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যা মানসিক অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ।
একঘেয়েমি ও অবরুদ্ধ দশা: বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হতে না পেরে সারাদিন ঘরে বন্দি থাকার একঘেয়েমি থেকে অনেকের মনে বিরক্তি ও বিষণ্ণতা তৈরি হয়।
অহেতুক আশঙ্কা: অবচেতন মনে বৃষ্টি দেখে বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা ভেবে অনেকেই এক ধরনের অজানা আতঙ্ক ও মানসিক চাপে ভোগেন।
অবসাদ থেকে মুক্তির ৪টি ঘরোয়া উপায়:
১. উজ্জ্বল আলোর ব্যবহার: বাইরে মেঘলা পরিবেশ থাকলে ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত উজ্জ্বল আলো জ্বেলে রাখুন। আলোকিত পরিবেশ মানসিক অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা: ঘরের ভেতরেই ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা ইয়োগা (যোগব্যায়াম) করুন। শারীরিক পরিশ্রম হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রেখে মেজাজ ফুরফুরে রাখে।
৩. পছন্দের কাজে ব্যস্ত থাকা: মন খারাপকে প্রশ্রয় না দিয়ে বই পড়া, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো সিনেমা দেখে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে বর্ষার এই সময়ে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণের পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক অবসাদ কাজ করে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত একজন পেশাদার মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসআর