[email protected] মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বের সেরা শেফ হওয়ার দৌড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১২:২৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আন্তর্জাতিক রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।

খ্যাতিমান শেফ কার্লা হলের উপস্থাপনায় এবং জেমস বেয়ার্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এখন জনভোটের ভিত্তিতে সেমিফাইনালিস্ট নির্বাচন করা হবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

প্রতিযোগিতায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একজন ভোটার একবার করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মাদিহা তুরশীন বর্তমানে ‘ইয়াম মোমেন্টস’-এর শেফ ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক এই আসরে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে আধুনিক রন্ধনশৈলীর মাধ্যমে বৈশ্বিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

তাঁর উপস্থাপনায় দেশীয় খাবারের সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি, অভিবাসন এবং বৈশ্বিক প্রভাবের নানা দিকও উঠে আসে।

নিজের রন্ধনদর্শন সম্পর্কে মাদিহা বলেন, তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারের মাধ্যমে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের রান্নাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী।

প্রতিযোগিতায় তাঁর পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে Verdure, Rohu à la Bengal, Comfort, Coloured এবং Monsoon Tea & Memory। এসব পরিবেশনায় বাংলাদেশের খাদ্যঐতিহ্য, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমসাময়িক রন্ধনপ্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

ফরাসি রন্ধনশিক্ষা প্রতিষ্ঠান Le Cordon Bleu থেকে Grand Diplôme অর্জনকারী মাদিহা তুরশীন শুধু একজন শেফই নন; খাদ্যের ইতিহাস, গবেষণা, গণমাধ্যম এবং সৃজনশীল নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত।

তাঁর উদ্যোগ ‘ইয়াম মোমেন্টস’ খাবারকে ইতিহাস, বিজ্ঞান, নকশা, সংস্কৃতি ও গল্প বলার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পারলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নাকে আধুনিক উপস্থাপনায় নিয়ে একটি কফি-টেবিল বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

পাশাপাশি ঢাকায় ‘ইয়াম মোমেন্টস’ নামে একটি সমন্বিত রন্ধন ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

এই প্ল্যাটফর্মে দেশি-বিদেশি শেফ, গবেষক, শিল্পী ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তাঁর আশা।

মাদিহা তুরশীনের এই সাফল্যকে অনেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বিকাশমান রন্ধনঐতিহ্য তুলে ধরার একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর