সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের জন্য আমাদের প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায়
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন (Niacin) থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি একটি পানিতে দ্রবণীয় (Water-soluble) ভিটামিন হওয়ায় শরীর এটিকে জমিয়ে রাখতে পারে না এবং অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। তাই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমেই এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার খান, তাদের শরীরে এই ঘাটতি কম হয়; কারণ প্রোটিনে থাকা 'ট্রিপটোফ্যান' নামক অ্যামিনো অ্যাসিডকে আমাদের যকৃৎ সহজেই ভিটামিন বি-৩-এ রূপান্তর করতে পারে।
শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভিটামিন বি-৩ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। প্রথমত, এটি আমাদের গৃহিত খাদ্যকে ভেঙে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করে দৈনন্দিন কাজের শক্তি জোগায়। দ্বিতীয়ত, রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে এটি সাহায্য করে। তৃতীয়ত, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রেখে মানসিক অবসাদ দূর করতে এটি কার্যকর। চতুর্থত, এটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং কোষের ডিএনএ মেরামতে সাহায্য করে। উল্লেখ্য, শরীরে দীর্ঘদিন এই ভিটামিনের তীব্র ঘাটতি থাকলে ‘পেলাগ্রা’ (Pellagra) নামক জটিল রোগ হতে পারে, যার লক্ষণ হলো ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়া ও মানসিক বিভ্রান্তি।
দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় সামান্য নজর দিলেই সহজে ভিটামিন বি-৩-এর চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর চমৎকার প্রাণিজ উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে মুরগির মাংস, কলিজা, ডিম এবং রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকির মতো বিভিন্ন মাছ। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে চিনাবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, মাশরুম, সবুজ মটরশুঁটি, লাল চাল ও নারকেল অন্যতম। তাই একটি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনের জন্য আজ থেকেই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো যুক্ত করুন।
এসআর