নারীর মনেই নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এই সময়ে ডিম খাওয়া নিরাপদ কি
না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম যদি সঠিকভাবে এবং পুরোপুরি সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া হয়, তবে এটি গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর জন্য অত্যন্ত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর একটি খাবার।
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এছাড়া এতে মা ও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। তবে গর্ভাবস্থায় কোনোভাবেই কাঁচা বা আধসিদ্ধ ডিম খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে 'সালমোনেলা' নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা খাদ্যবাহিত নানা অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল
কারেন্ট ডেভেলপমেন্টস ইন নিউট্রিশন সাময়িকীতে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি মা ও নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এই গবেষণায় গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে শিশুর জন্মের ওজন, গর্ভকাল এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধির সম্পর্ক মূল্যায়ন করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা নিয়মিত পুরো ডিম বা চর্বিযুক্ত ডিম খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন বয়সের তুলনায় কম ওজনের (এসজিএ) শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বেশ কম ছিল। তবে শুধু ডিমের সাদা অংশ বা অন্য কোনো বিকল্প খাবারের ক্ষেত্রে এই উপকারিতা দেখা যায়নি। গবেষকদের মতে, ডিমের প্রোটিনের পাশাপাশি এর স্বাস্থ্যকর চর্বিও ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দৈনিক কতটুকু ডিম খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ গর্ভবতী নারী তার দৈনিক সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি করে ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন। তবে সবার শারীরিক অবস্থা এক না হওয়ায় এই নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
গর্ভবতী নারীর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি, ওজন, দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে চিকিৎসকরা প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম খাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন। তাই গর্ভাবস্থায় নিজের জন্য ডিম খাওয়ার সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমত্তার কাজ।
এসআর