অনেকেই ‘ব্লাড সুগার’ ও ‘ডায়াবেটিস’ শব্দ দুটিকে একই মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, এ দুটি
সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ব্লাড সুগার হলো রক্তে থাকা গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ, যা প্রতিদিনের খাবার হজম হয়ে তৈরি হয় এবং শরীরের প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
সুস্থ মানুষের শরীরেও ব্লাড সুগার থাকে এবং খাবার, পরিশ্রম, ঘুম বা মানসিক চাপের কারণে এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর তা ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থায়ীভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।
একবার রক্ত পরীক্ষায় সুগার বেশি এলেই কাউকে ডায়াবেটিস রোগী বলা যায় না, কারণ মানসিক চাপ, সংক্রমণ বা ঘুমের অভাবেও সাময়িকভাবে সুগার বাড়তে পারে। চিকিৎসকরা ডায়াবেটিসকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এর স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণের মাধ্যমে হৃদরোগ, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় ও ফাস্ট ফুড পরিহার করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, শাকসবজি ও প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম, ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা জরুরি।
এসআর