প্রচণ্ড গরমে সবার শারীরিক অনুভূতি এক রকম হয় না। কেউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে
পারলেও, অনেকে অল্পতেই ক্লান্ত ও অসুস্থ বোধ করেন। মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধু আবহাওয়াই নয়, শরীরের ভেতরের কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি গরম বা অস্বস্তি অনুভূত হয় এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আটটি শারীরিক সমস্যার কারণে গরম অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে হরমোনের মাত্রা বাড়ায় বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয় এবং অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ তাপ উৎপন্ন হওয়ায় সবসময় গরম ও ক্লান্তি লাগে। দ্বিতীয়ত, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও ঘামগ্রন্থির ক্ষতি করে স্বাভাবিক ঘাম তৈরিতে বাধা দেয়, যা পানিশূন্যতা বাড়ায়। তৃতীয়ত, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তসঞ্চালন বিঘ্নিত হওয়ায় শরীরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বের হতে পারে না।
চতুর্থ কারণ হিসেবে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে চর্বি প্রাকৃতিকভাবে তাপ ধরে রাখায় শরীর সহজে ঠান্ডা হতে চায় না। পঞ্চমত, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতার কারণে অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোয় শরীর দ্রুত শক্তি হারিয়ে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা তৈরি করে। ষষ্ঠত, নারীদের মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার কারণে ‘হট ফ্ল্যাশ’ বা হঠাৎ শরীর গরম ও ঘাম হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়; এমনকি গর্ভাবস্থায় হরমোনের ওঠানামাও এর জন্য দায়ী। সপ্তমত, শরীরে পানির ঘাটতি বা পানিশূন্যতা থাকলে ঘাম কমে যায় এবং শরীর শীতল হতে পারে না। সর্বশেষ কারণটি হলো উচ্চ রক্তচাপ, ডাইইউরেটিক (মূত্রবর্ধক) এবং মানসিক রোগের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যা শরীরের পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট করে গরমে অস্বস্তি বাড়ায়।
যাদের এই ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতা রয়েছে, গরমের সময়ে তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়া, প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা, দুপুরের কড়া রোদ ও অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং শীতল ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে গরমের কারণে যদি মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘাম, বমিভাব, শ্বাসকষ্ট কিংবা দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো তীব্র পানিশূন্যতা বা হিট স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
এসআর