[email protected] মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কাশির সময় বুকে ব্যথা: সাধারণ উপসর্গ নাকি জটিল রোগের লক্ষণ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১০:০৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

কাশির সময় বুকে ব্যথা অনুভব করা একটি পরিচিত সমস্যা, যা হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র ব্যথার রূপ নিতে পারে। এই ব্যথা বুকের

 যেকোনো এক বা উভয় পাশে, কিংবা পুরো বুকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী বা শুষ্ক কাশির কারণে বুক ও পিঠে তীব্র চাপ অনুভূত হয়। এর সাথে সাধারণত পেশি ও শরীর ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, কফ বের হওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে টানটান ভাব বা আড়ষ্টতার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিয়ে থাকে।

​বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ব্যথার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ থাকে, যেমন—অতিরিক্ত কাশির কারণে বুক ও পেটের পেশিতে টান পড়া, তীব্র ব্রঙ্কাইটিস (বুকের ঠান্ডা), নিউমোনিয়া, ফুসফুসের আবরণের প্রদাহ বা প্লুরিসি এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা (GERD)। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ফুসফুসে তরল জমা বা হার্ট ফেইলিওর, ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা (পালমোনারি এম্বোলিজম), হৃৎপিণ্ডের আবরণে প্রদাহ (পেরিকার্ডাইটিস) কিংবা ফুসফুস চুপসে যাওয়ার (নিউমোথোরাক্স) মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেতও হতে পারে, যার জন্য তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

​সাধারণ কাশির কারণে সৃষ্ট বুকে ব্যথা উপশমে কিছু ঘরোয়া ঘরোয়া পদ্ধতি বেশ কার্যকরী। এর মধ্যে রয়েছে—মধু ও গরম পানির মিশ্রণ, গরম পানির ভাপ (স্টিম), আদা চা, তুলসী পাতা ও রসুনের ব্যবহার, লবণ-পানিতে গার্গল করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ। ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ারও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা গুরুতর জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক, নেবুলাইজার, কর্টিকোস্টেরয়েড কিংবা অক্সিজেন সাপোর্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

​যদি বুকে ব্যথা বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, কিংবা ব্যথার সাথে অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব এবং ১০০.৪° ফারেনহাইটের বেশি জ্বর থাকে—তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণ সর্দি-কাশিজনিত ব্যথা বিশ্রাম ও ঘরোয়া যত্নেই সেরে যায়, কিন্তু লক্ষণ জটিল হলে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর