[email protected] সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ভ্যাপসা গরমে ৯টি ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

আষাঢ়ের তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

 বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীর ঠান্ডা রাখতে হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবহাওয়ায় অবহেলা করলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক জীবন সংশয়কারী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই তীব্র গরমে মূলত ৯টি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে:

​১. হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগ: তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হার্টকে দ্রুত পাম্প করতে হয় বলে ধমনীতে ব্লক থাকা রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

২. কিডনি রোগ ও পাথর: অতিরিক্ত ঘামের পর পর্যাপ্ত পানি না খেলে প্রস্রাবে খনিজের ঘনত্ব বেড়ে কিডনিতে পাথর জমে এবং কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

৩. আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা: আর্দ্র আবহাওয়ায় জয়েন্টের ভেতরের টিস্যু ফুলে ব্যথা বাড়ে এবং ডিহাইড্রেশনের কারণে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেঁটে বাত দেখা দেয়।

৪. অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট: গরম ও ওজোন গ্যাসের কারণে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে।

৫. ডায়াবেটিস: পানিশূন্যতা ও রক্তনালী প্রসারণের কারণে ব্লাড সুগার হঠাৎ খুব কমে বা বেড়ে যেতে পারে।

৬. মাইগ্রেন: কড়া রোদ, ডিহাইড্রেশন ও অনিদ্রার কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে তীব্র মাথাব্যথা হয়।

৭. মানসিক অবসাদ: অতিরিক্ত গরমে মানসিক চাপের হরমোন সক্রিয় হয়ে দুশ্চিন্তা, খিটখিটে মেজাজ ও প্যানিক অ্যাটাক বাড়িয়ে দেয়।

৮. লুপাস: এই রোগীরা রোদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য রোদে ত্বকে লালচে র্যাশ, ক্লান্তি ও জয়েন্টে ব্যথা বাড়ে।

৯. মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস: শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে স্নায়বিক সংকেত ব্যাহত হয়, ফলে পেশীর দুর্বলতা ও হাত-পা অবশ হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

সুস্থ থাকতে যা করণীয়:

এই ভ্যাপসা গরমে সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করতে হবে। বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধানের পাশাপাশি ছাতা, সানগ্লাস ও হাতপাখা ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া রোদে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা নিয়মিত প্রেসার, হার্ট বা ডিপ্রেশনের ওষুধ খান, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের ডোজ রিভিউ করে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ কিছু ওষুধ গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর