দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতের এক টুকরো শান্তিময় ঘুম আমাদের সবারই কাম্য। তবে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব যখন নিয়মিত রূপ নেয়, তখন শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দীর্ঘমেয়াদে জমতে শুরু করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এই সমস্যা
আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এই গ্রীষ্মকালে কেন আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী, তা নিয়ে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের ইএনটি কনসালট্যান্ট ডক্টর রাহুল মোদি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন।
ডক্টর মোদির মতে, ঘুমোনোর সময় শরীর মূলত তার ভেতরের তাপমাত্রা বা ‘কোর টেম্পারেচার’ কমিয়ে ঘুমের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বাইরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা দেয়। আর বাতাসে আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি বেশি থাকলে শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। ফলে আমরা সহজে ঘুমাতে পারি না এবং বিছানায় ছটফট করতে থাকি।
ঘুমের আরেকটি বড় শত্রু হলো আলো। গ্রীষ্মকালে দিন বড় হওয়ায় এবং রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে দেরি হয়। এই হরমোনটি আমাদের ঘুমের চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া অনিয়মিত জীবনযাত্রা, দেরিতে ঘুমানো এবং ভ্রমণের ফলেও এই চক্র ভেঙে পড়ে।
এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য ডক্টর মোদি ৭টি কার্যকরী বৈজ্ঞানিক উপায় বাতলে দিয়েছেন:
হিন্দুস্তান টাইমসের সূত্র ধরে ডক্টর রাহুল মোদি পরিশেষে সতর্ক করে বলেন, মাঝে মাঝে দু-এক রাত ঘুম না হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই সমস্যা যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে এবং প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও আপনি ক্লান্ত বোধ করেন, তবে বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসআর