[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যেসব ভুলে কুরবানির গোশত দ্রুত নষ্ট হয় ও বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬ ৭:২৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার পশু কুরবানির সঙ্গে ধর্মীয় বিধানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ জড়িত। তবে অসচেতনতা ও সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন,

 যা গোশতের গুণগত মান নষ্ট করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। কুরবানির সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

জবাইয়ের সময় প্রচলিত ভুল ও সঠিক পদ্ধতি

শরিয়তসম্মতভাবে ধারালো ছুরি ব্যবহার না করা বা পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া বড় ভুল। সবচেয়ে গুরুতর ভুল হলো পশুর প্রাণ পুরোপুরি বের হওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো বা দ্রুত প্রাণ বের করার জন্য মেরুদণ্ডে আঘাত করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মেরুরজ্জুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে পশু স্বাভাবিক রক্তক্ষরণে মারা না গিয়ে আকস্মিক শকে মারা যায়। এতে শরীর থেকে সম্পূর্ণ রক্ত বের হতে পারে না এবং গোশতে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, যা গোশতের মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সঠিক নিয়ম হলো, প্রধান রগগুলো কাটার পর পশুর শরীর থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ রক্ত বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা করা।

গরম গোশত সংরক্ষণের মারাত্মক ভুল

কুরবানির পরপরই গরম গোশত রান্না করা কিংবা তাড়াহুড়া করে পলিথিনে ভরে স্তূপ করে রাখা বৈজ্ঞানিকভাবে ক্ষতিকর। জবাইয়ের পর গরু বা খাসির গোশত অন্তত ৬ ঘণ্টা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা (চিলিং) উচিত। এতে গোশত নরম ও সুস্বাদু হয় এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে। গরম অবস্থায় গোশত স্তূপ করে রাখলে ভেতরে তাপ আটকে দ্রুত জীবাণু ও পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই গোশত পুরোপুরি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত প্যাকেট করা বা ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।

গোশত ধোয়ার ভুল পদ্ধতি

কাটার পর গোশত অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার ধোয়া বা দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হয়। এছাড়া পানির ছিটা থেকে রান্নাঘরের সিঙ্ক ও টেবিলে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। গোশতে দৃশ্যমান ময়লা, লোম বা জমাট রক্ত থাকলে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

অতিরিক্ত গোশত খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি

জবাইয়ের পরপরই বা কুরবানির দিনে অতিরিক্ত গোশত খেলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত গোশত বেশি খেলে উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্বাস্থ্যসম্মত রান্না ও পরিমিত পরিমাণ খাবার খাওয়া জরুরি।

অপরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ দূষণ

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও যত্রতত্র পশু জবাই করা, রক্ত ও বর্জ্য ফেলে রাখা বা ড্রেন বন্ধ করার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব থেকে রোগজীবাণু ছড়ায়। তাই নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সবার দায়িত্ব।

এসআর

সম্পর্কিত খবর