শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি আরামদায়ক ঘুম অপরিহার্য। এটি কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যই নয়, বরং শিশুদের সার্বিক বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘পেডিয়াট্রিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়
শিশুদের মধ্যে ঘুমের উল্লেখযোগ্য হ্রাসের চিত্র উঠে এসেছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুদের শরীর ক্লান্ত হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও নতুন তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
মানসিক ও আচরণগত প্রভাব:
ঘুমের ঘাটতি হলে শিশুরা আবেগগতভাবে অস্থির হয়ে ওঠে এবং সহজেই খিটখিটে ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর ফলে তারা মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় ভোগে। এছাড়া, অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের সামাজিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, যার কারণে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশায় সমস্যা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ঘুমের অভাবে শিশুদের আচরণে মনোযোগের ঘাটতিজনিত ব্যাধি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডারের মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
মেধা ও একাগ্রতার ক্ষতি:
কম ঘুম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে শিশুদের মনোযোগ ও একাগ্রতার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া, স্মৃতিতে তথ্য ধরে রাখা এবং জটিল সমীকরণ বা সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
করণীয় ও সমাধান:
শিশুদের ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে অভিভাবকরা ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টেলিভিশনের স্ক্রিন দেখার অভ্যাস কমানো, দিনের বেলায় শারীরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করা এবং শোবার ঘর আরামদায়ক রাখা। তবে শিশুর মধ্যে যদি ক্রমাগত খিটখিটে মেজাজ, রাতে অতিরিক্ত কান্না এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতার মতো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসআর