[email protected] রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসির বাবা জর্জ মেসি আর নেই: ট্র্যাজিক বিয়োগে শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ আগষ্ট ২০২৬ ৭:৫৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা এবং তাঁর

 দীর্ঘদিনের এজেন্ট জর্জ মেসি আর নেই। শনিবার (৮ আগস্ট) ৬৮ বছর বয়সে নিজ শহর রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মেসির শৈশবের ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ এক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

​জর্জ মেসির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ। ক্লাবটির বিবৃতিতে বলা হয়, মহাতারকা লিওনেল মেসির পিতা হিসেবে জর্জ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক, সফল ব্যবসায়ী এবং সন্তানের ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান শক্তি ও স্তম্ভ।

​লিওনেল মেসির সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা জর্জ মেসির অবদান অনস্বীকার্য। শৈশবে রোজারিওর স্থানীয় ক্লাবে যখন মেসির ফুটবলে হাতেখড়ি হয়, তখন থেকে প্রতিটি পদে পদে পাশে ছিলেন বাবা। পেশায় একজন ইস্পাত কারখানার তদারককারী হলেও ছেলের শুরুর দিকের ফুটবল জীবনে তিনিই প্রথম কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

​তবে মেসির জীবনসংগ্রামের সবচেয়ে কঠিন মোড়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি রাখেন জর্জ। ছোটবেলায় মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের জটিল ঘাটতি ধরা পড়লে নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সাধারণ পরিবারটির জন্য একপ্রকার অসম্ভব ছিল। কিন্তু সন্তানের অসামান্য ফুটবল প্রতিভা যাতে থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যে পথ খুঁজতে থাকেন তিনি।

​২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে স্পেনে পাড়ি জমান জর্জ। লক্ষ্য ছিল বার্সেলোনা যুব একাডেমিতে (লা মাসিয়া) ছেলেকে অন্তর্ভুক্ত করা। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা ক্লাবে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তারা মেসির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয়। অচেনা দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও নতুন জীবনযাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পুরোটা সময় ছায়ার মতো পাশে থেকে ছেলেকে মানসিক শক্তি জুগিয়ে গেছেন জর্জ।

​এরপরের পুরো কাহিনী ফুটবল ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। মেসি ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলেন। আর সেই মহাকাব্যিক যাত্রাপথে সর্বক্ষণ পাশে থেকে যান তাঁর বাবা।

​কেবল বাবা হিসেবেই নয়, মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এজেন্ট ও প্রধান প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন জর্জ। বিভিন্ন ক্লাবের সাথে চুক্তি, পারিশ্রমিক ও দলবদলের মতো ক্যারিয়ারের নানা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনিই।

​বার্সেলোনায় দুই দশকের সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বাঁকে কিংবা পরবর্তী সময়ে ফরাসি ক্লাব পিএসজি এবং আমেরিকার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ২০২৩ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে মেসির ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার চূড়ান্ত বিষয়টিও ক্লাবের সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাকে সরাসরি জানিয়েছিলেন জর্জ।

​বিশ্বকাপ জয়, আটটি ব্যালন ডি’অরসহ অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কারে মেসির ঝুলি পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্বসেরা মহাতারকার উত্থানের পেছনে নীরব দূরদর্শী হিসেবে ছিলেন একজন বাবা—যিনি প্রথম থেকে ছেলের বিশ্বজয়ের স্বপ্নে ভরসা রেখেছিলেন, চরম প্রতিকূলতায় নিজের দেশ ছেড়ে অচেনা স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

​কিংবদন্তি মেসির অনন্য সাফল্যের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়লেও, সেই আলোর পথপ্রদর্শক হয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন জর্জ মেসি। বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রের নেপথ্যের সেই প্রধান কারিগরই এবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। 

এসআর

সম্পর্কিত খবর