২০২৬ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়।
৪৭ বছর বয়সী ফোরলানের জন্য এটি কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করা উরুগুয়েকে আবার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেন, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়ে উরুগুয়ে।
তিন ম্যাচ শেষে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় লা সেলেস্তেকে। এই ব্যর্থতার পরই প্রধান কোচের পদ ছাড়েন বিয়েলসা।
ফেডারেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ফোরলানের প্রাথমিক চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত।
এরপর তার কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুধু সিনিয়র দল নয়, উরুগুয়ের অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।
২০২৭ সালের দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সাবেক এই তারকা।
খেলোয়াড় হিসেবে ফোরলানের ক্যারিয়ার ছিল বর্ণাঢ্য। ২০১০ বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করে উরুগুয়েকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
সেই আসরে টুর্নামেন্টসেরার স্বীকৃতি হিসেবে জেতেন গোল্ডেন বল।
ক্লাব ফুটবলেও তিনি সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং স্পেনের ভিয়ারিয়াল ও আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন।
গোল করার দক্ষতা, দূরপাল্লার শট ও নেতৃত্বের জন্য তিনি ছিলেন নিজের সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড।
তবে কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত।
এর আগে উরুগুয়ের পেনিয়ারল এবং সিএ আতেনাসের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এখন জাতীয় দলের মতো বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফোরলানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ধাক্কা কাটিয়ে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাও তার অন্যতম লক্ষ্য।
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে অতীতেও কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির দেখিয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের অন্যতম সেরা ফুটবল কিংবদন্তির নেতৃত্বে নতুন করে সাফল্যের পথে ফেরার আশা করছে লা সেলেস্তে।
এসআর