[email protected] সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

মেসি আমাদের সালাহকে খুঁজছিল, শুভেচ্ছা জানানোর জন্য: মোস্তফা জিকো

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ ৩:৫৯ এএম

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মোহামেদ সালাহ। আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো বলেছেন, ‘ম্যাচের প্রথম ৮০ মিনিট তো ভুলেই গিয়েছিলাম মেসি মাঠে আছে।’ একই সঙ্গে তিনি রোনালদোকেই সর্বকালের সেরা বলে আখ্যা দেন এবং সালাহর প্রশংসায় ভাসেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক রুদ্ধশ্বাস ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে মিশরের স্বপ্ন ভেঙে ৩-২ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করলেও শেষ মুহূর্তের জাদুতে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে ম্যাচ শেষে সৌদি আরবের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘এমবিসি টিভি’ (MBC TV)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির পারফরম্যান্স এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা দ্বৈরথ নিয়ে এক অকপট ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।


মিশরীয় এই স্ট্রাইকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হলেও তাঁর হৃদয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবস্থান সবার ওপরে। একই সাথে ম্যাচের প্রথম ৮০ মিনিট মাঠে মেসির কোনো অস্তিত্বই তিনি টের পাননি বলে দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে মোস্তফা জিকোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মেসি যদি এই অনুষ্ঠানটি দেখেন এবং আরবি বোঝেন, তবে তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি কী বলবেন? জবাবে জিকো বলেন, "মেসি—সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পরেই তার স্থান। রোনালদোই আমার সর্বকালের সেরা ও প্রিয় খেলোয়াড়।

সত্যি বলতে, ম্যাচের প্রথম ৮০ মিনিট গোল করার আগ পর্যন্ত আমি মাঠের ভেতর মেসির উপস্থিতিই টের পাইনি। আল্লাহর কসম, পুরো ৮০ মিনিট আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমরা মেসির সাথে একই মাঠে খেলছি! তবে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের দলে কিন্তু সালাহ ছিল!"

উল্লেখ্য, এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে লিওনেল মেসি ২১ মিনিটে একটি পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ম্যাচের ৭৯ মিনিটে রোমেরোকে দিয়ে একটি গোল করান এবং ৮৪ মিনিটে নিজেই নিখুঁত এক শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান, যা পরে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ে রূপ নেয়।
টানেলে সালাহকে খুঁজছিলেন মেসি:

ম্যাচ হারলেও ম্যাচের শুরুর আগের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করে রোমাঞ্চিত জিকো বলেন, "ম্যাচ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্লেয়ার্স টানেলে যখন দুই দেশের জাতীয় সংগীতের প্রস্তুতি চলছিল, তখন আমি পরিষ্কার দেখছিলাম—মেসি চারদিকে আমাদের মোহামেদ সালাহকে খুঁজছিল, শুধুমাত্র তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় যখন আমার দেশের মহাতারকাকে এভাবে সম্মান জানায়, সেই মুহূর্তে একজন মিশরীয় হিসেবে আমার বুক গর্বে ও আনন্দে ভরে গিয়েছিল।"

নিজের অধিনায়ক ও সতীর্থ মোহামেদ সালাহকে নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের সমালোচনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিকো। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, "কিছু মানুষ কীভাবে প্রশ্ন তোলে—‘সালাহ কী করছে?’ বা ‘আজ সালাহ কেমন খেলল?’ সালাহ অন্য স্তরের, অন্য গ্রহের খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই। সে সব দিক থেকে অনন্য।"

সালাহর ব্যক্তিগত ঔদার্যের প্রশংসা করে জিকো আরও যোগ করেন, "মাঠে ও মাঠের বাইরে, বিশেষ করে আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে সালাহর অবদান বিশাল। অথচ একসময় আমি তাকে শুধু টিভিতেই দেখতাম। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সালাহর সাথে দেখা করা এবং একবার হাত মেলানো। আজ তার সাথে খেলতে পারাটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।"
মিশরের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেলেও, সালাহ-মেসির পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর জিকোর এই অকপট স্বীকারোক্তি ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর