লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফোলারিন বালোগানকে দলে ফেরাতে খোদ মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই বালোগানকে নিয়েও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে পারল না স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে তারা। অন্যদিকে, রোমেলু লুকাকু ও কেভিন ডি ব্রুইনার অনন্য নেতৃত্বে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম।
পুরো আসরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়ালেও নকআউট পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি মার্কিনরা। উল্টো রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের মারাত্মক সব ভুলের সুযোগ নিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউরোপের পরাশক্তি বেলজিয়াম। বিজয়ী দলের হয়ে চার্লস ডি কেটেলার চমৎকার জোড়া গোল করেন। এছাড়া হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকু জালের দেখা পান একবার করে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মালিক তিলমান, যা ম্যাচের একপর্যায়ে সমতা এনেছিল মাত্র।
এই জয়ের মাধ্যমে গত ১২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করার স্বাদ পেল বেলজিয়াম। একই সঙ্গে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রাখল তারা। আগামী শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ চারে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর বিপক্ষে লড়াই করবে।
চলতি আসরে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যে স্বপ্ন তারা বুনেছিল, তা অধরাই রয়ে গেল।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে এটি যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম পরাজয়। পাশাপাশি ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলা শেষ ১২টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হারের মুখ দেখল মার্কিনরা, যেখানে একমাত্র জয়টি এসেছিল রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।
এসআর