[email protected] সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
২২ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ের ‘ঐতিহাসিক রাত’, পুরো কৃতিত্ব দলকে দিলেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬ ৯:০৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার

 ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির ফুটবলে এমন স্মরণীয় সাফল্যের পর নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাক্কেন এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক রাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বেশ উৎফুল্ল মেজাজে হাজির হয়ে তিনি বলেন, অসাধারণ টিম স্পিরিট ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই এই জয় সম্ভব হয়েছে।

​হালান্ডের প্রশংসা ও দলীয় সমন্বয়

​ম্যাচে নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যার জোড়া গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় ব্রাজিল। হালান্ডের গোল করার দক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ও স্কিলের প্রশংসা করলেও কোচ সলবাক্কেন দলীয় সমন্বয়কেই এগিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ঐতিহাসিক জয় কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর ভর করে আসেনি; বরং পুরো দল পরিকল্পনা অনুযায়ী রক্ষণ ও আক্রমণ—উভয় বিভাগেই সমান অবদান রেখেছে।

​ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও কৌশলগত পরিবর্তন

​ম্যাচের শুরুতে হালান্ডের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে ব্রাজিল পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গুইমারেস গোল করতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে নরওয়ে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে। কৌশলী কোচ জানান, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় পরিবর্তন (সাবস্টিটিউশন) করা হয়েছিল, যা পুরো খেলার গতিপথ বদলে দেয় এবং হালান্ডের গোল পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

​গোলরক্ষকের অবদান ও ব্রাজিলের প্রতি সম্মান

​দলের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আলাদা প্রশংসা করে কোচ তাকে ম্যাচের অন্যতম 'ম্যাচ উইনার' হিসেবে অভিহিত করেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সলবাক্কেন বলেন, ব্রাজিল এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম পরাশক্তি এবং তাদের মতো দলের বিরুদ্ধে জিততে হলে নিখুঁত ফুটবল খেলার বিকল্প নেই; তার দল ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।

​খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে অনন্য রেকর্ড

​এর আগে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও খেলোয়াড় হিসেবে ব্রাজিলকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিলেন সলবাক্কেন। এবার কোচের ভূমিকায় সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন। তবে তিনি জানান, অতীতের সেই গল্প তিনি বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের বলেননি, কারণ দুই যুগের আগের দল আর এই দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে এবং নকআউট পর্বের ম্যাচের চাপ ও গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা।

​কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য

​কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের। পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নরওয়ে কোচ সোজাসাপ্টা জানান, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড কিংবা মেক্সিকো যেই হোক না কেন, কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর