[email protected] মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

গোলখরায় রোনালদো, চোটে নেইমার; তবু আস্থা হারাননি কানসেলো

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ৭:১২ পিএম

ইনসেটে কানসেলো

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্দের মতো তারকারা। তবে একই সময়ে সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ফুটবল বিশ্বের দুই পরিচিত মুখ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। একজন গোলখরায় ভুগছেন, অন্যজন এখনো চোটের কারণে মাঠে ফিরতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে দুই তারকার পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন পর্তুগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলো।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কানসেলো বলেন, রোনালদো কিংবা নেইমারের মতো ফুটবলারদের নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। ফুটবল ইতিহাসে তাঁদের অর্জনই তাঁদের পরিচয়।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েন ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোল না পাওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে।

অন্যদিকে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র এখনো মাঠের বাইরে। কাফ ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই খেলতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে ফিরলেও এখনো পুরোপুরি ফিট নন। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন অন্য তারকারা। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে চার গোল করে রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন। নরওয়ের আর্লিং হালান্দও চার গোল করে দলকে নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে রোনালদো ও নেইমারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোল ও সমালোচনার জবাব দেন কানসেলো।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না নেইমার কিংবা ক্রিস্টিয়ানোর কাউকে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন আছে। তাঁরা ফুটবলে যা অর্জন করেছেন, সেটাই যথেষ্ট। বাইরের অনেক কথাই কেবল আলোচনায় থাকার জন্য বলা হয়। কিন্তু তাঁরা দুজনই জানেন, নিজেদের দেশের জন্য তাঁরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গে কানসেলো আরও বলেন, “অধিনায়ক হিসেবে তিনি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা পুরো দলকে সাহায্য করে। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময় থেকে ফিরে আসতে হয়। আমরা দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং সামনে কী করতে হবে, সেটিতেই মনোযোগ দিচ্ছি।”

বিশ্বকাপের শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও রোনালদো ও নেইমারের মতো দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে নিজেদের আস্থা হারাচ্ছেন না তাঁদের সতীর্থরা। এখন দেখার বিষয়, বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তাঁরা সমালোচকদের জবাব দিতে পারেন কি না।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর