ঢাকায় শুরু হয়েছে ১২তম জাতীয় এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপ। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত শুটিং কমপ্লেক্সে বুধবার (১৭ জুন) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শুটিংয়ের রয়েছে দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের শুটাররা অতীতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছেন। তবে গত কয়েক বছরে শুটিং থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থার পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মো. আমিনুল হক বলেন, ‘শুটিংয়ে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরতে হলে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও ফেডারেশনের সবাইকে একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মানের তিন থেকে চারটি এবং জাতীয় পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয়টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। তাই আমরা চাই প্রতিটি ফেডারেশন সারা বছর পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করুক এবং খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করুক।’
খেলোয়াড়দের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ স্পোর্টস ভিলেজ প্রকল্পে শুটিং ও আর্চারির জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ রাখা হবে, যাতে এসব ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা আরও উন্নত পরিবেশে অনুশীলনের সুযোগ পান।
শুটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য আপনাদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিতে হবে। জাতীয় পতাকা বহন করার দায়িত্ব যেমন গর্বের, তেমনি এটি বড় দায়িত্বও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মনিবেদন প্রয়োজন।’
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অনেক ক্ষেত্রেই নতুন করে কাজ শুরু করেছে। তাই রাতারাতি পরিবর্তন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দৃশ্যমান পরিবর্তন ও সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর রয়েছে। সেখানে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশের জন্য পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সবাইকে এক পরিবারের মতো কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সভাপতি মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ (এনডিসি, পিএসসি)।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শুটিং প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে অংশ নিচ্ছেন দেশের প্রতিশ্রুতিশীল শুটাররা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের শুটার তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
এসআর