[email protected] শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ-ডিবির মারধর ও গুমের অভিযোগ

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬ ৯:১৪ এএম

চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে রাতে পুলিশ ও ডিবির সদস্যদের দ্বারা হেনস্তার অভিযোগ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন টাইগার স্পিনার।

জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে তুলে নিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হন বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।

জানা গেছে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তার ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি না পেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নগরের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

নাঈমের অভিযোগ, পথে টোল প্লাজা এলাকায় এক ট্রাফিক পুলিশ তাদের গাড়ি থামান। পরে লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন এবং তল্লাশি চালাতে চান।

গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাঈম বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তারা শুধু ব্যাগ চেক করবেন। কিন্তু হঠাৎ এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দেন। আমি জানতে চাইছিলাম কী হয়েছে। তখন তিনি আমাকে বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’”

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের দাবি, এরপর তার কলার চেপে ধরা হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি বলেন, “আমার গলা চেপে ধরা হয়েছিল। আমি চিৎকার করে বাবাকে ফোন দিই। পরে আমার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। আশপাশের মানুষ আমাকে চিনতে পেরেছিল, আমার পরিচয়ও নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু তারপরও তারা আমাকে ছেড়ে দেয়নি।”

নাঈম আরও অভিযোগ করেন, উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন পুলিশ পোশাকে ছিলেন এবং আরেকজন ছিলেন সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত। পরে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় নিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কাঙ্ক্ষিত আচরণ পাননি। নাঈম বলেন, “আমি ওসিকে নিজের পরিচয় দিই। তখন তিনি আমাকে বলেন, ‘চোখ নিচু করে কথা বলো।’ পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার বিষয়ে ফোন আসতে শুরু করলে তাদের আচরণ বদলে যায়।”

এসআই শফিকের বিরুদ্ধে সরাসরি মারধরের অভিযোগ এনে নাঈম বলেন, “তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছেন। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার আপনার নেই। তারপরও তিনি মারধর করেছেন।”

ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা নাঈম হাসান দেশের অন্যতম পরিচিত অফস্পিনার। মাঠে শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের জন্য পরিচিত এই ক্রিকেটারের এমন অভিযোগ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রীড়াঙ্গন ও সাধারণ মানুষ।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর