ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার যোগ হচ্ছে নতুন অধ্যায়।
প্রথমবারের মতো তিনটি স্বাগতিক দেশে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের আসরকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম থেকে।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে।
ম্যাচ শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে, রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী আয়োজন।
পরদিন কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। ম্যাচের আগে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে সাংস্কৃতিক আয়োজন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে শনিবার ভোরে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। ম্যাচ শুরুর আগে ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে উদ্বোধনী পরিবেশনা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একসময় তুলনামূলক সীমিত আকর্ষণের হলেও গত কয়েক দশকে এটি বৈশ্বিক বিনোদনের বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে শাকিরার জনপ্রিয় গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এখনও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে বিশেষভাবে জায়গা করে আছে। এবারও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী।
মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে দেশটির ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও আদিবাসী শিল্পকলাকে তুলে ধরা হবে। সেখানে শাকিরার পাশাপাশি পারফর্ম করবেন নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অংশ নেবেন।
কানাডার উদ্বোধনী আয়োজনে দেশটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে পরিবেশন করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহিসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী থাকবে। সেখানে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, লিসা, অ্যানিত্তা, রেমা, ফিউচার ও টাইলারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা।
বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সৃজনশীল পরিচালনায় রয়েছেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত প্রযোজক মার্কো বালিচ।
আয়োজকদের লক্ষ্য, ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ফক্স ও এফএস১ চ্যানেলে সম্প্রচার করা হবে।
বাংলাদেশের দর্শকরা বিটিভি, টি-স্পোর্টস এবং সময় টিভির মাধ্যমে ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়া মাইরবি অ্যাপ, টফি এবং বায়োস্কোপ প্ল্যাটফর্মেও বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে।
এসআর