[email protected] বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগাল বধ, জয় দিয়ে শুরু ফ্রান্সের

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ ৫:৩৩ এএম

কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে ম্যাচটি ছিল ইতিহাস গড়ার। আর সেই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করেননি। জোড়া গোল করে অলিভিয়ের জিরুদকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার রেকর্ডগড়া রাতে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ফ্রান্স।

নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে সেনেগাল। তবে শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং বদলি নেমে ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফ্রান্সের জন্য সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার চাপে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি ফরাসিরা। বরং বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করেছে সেনেগালই।

২৫তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে এগিয়ে যেতে পারত আফ্রিকার দলটি। কিছুক্ষণ পর সাদিও মানের পাস থেকে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইসমাইলা সার। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৬০তম মিনিটে এমবাপ্পেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির দাবি তোলে ফরাসিরা। তবে ভিএআর দেখে সেই আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি।

তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৬তম মিনিটে মাইকেল অলিসের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির পাশ কাটিয়ে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি।

গোল হজমের পরপরই সমতায় ফিরেছিল সেনেগাল। কিন্তু নিকোলাস জ্যাকসনের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। আদ্রিয়েন রাবিওতের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই জালে বল পাঠিয়ে দলের জয় অনেকটা নিশ্চিত করে দেন তিনি।

তবে ম্যাচ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ে গোল করে সেনেগালকে আবার ম্যাচে ফেরান। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আফ্রিকান গোলদাতা হওয়ার কীর্তিও গড়েন।

কিন্তু সেনেগালের সেই আশার আলো নিভিয়ে দেন এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি সেনেগাল।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের গোলসংখ্যা ৫৮-তে নিয়ে যান এমবাপ্পে। এর ফলে ৫৭ গোল করা অলিভিয়ের জিরুদকে ছাড়িয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান তিনি।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে। কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স। আর রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে এমবাপ্পে যেন জানিয়ে দিলেন, এবারের বিশ্বকাপেও ফরাসিদের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম তিনিই।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর