ফুটবলকে ‘অনিশ্চয়তার খেলা’ বলা হয় কারণ এখানে যেকোনো মুহূর্তে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাতে পারে তুলনামূলক দুর্বল কোনো দল।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে আলোচনায় আসে কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয়। সংগঠিত রক্ষণভাগ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ খেলায় স্প্যানিশ আক্রমণকে থামিয়ে দেয় আফ্রিকার এই ছোট দেশ।
কাতার বিশ্বকাপে অন্যতম বড় চমক ছিল সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় লিওনেল মেসির দল। দ্বিতীয়ার্ধে সৌদিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।
নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই সেনেগাল দেখিয়ে দেয় তারা কেবল অংশ নিতে আসেনি। উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় বার্তা দেয় আফ্রিকার দেশটি।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শক্তিশালী ইতালিকে হারিয়ে দেয় নর্থ মেসিডোনিয়া। শেষ মুহূর্তের গোলে পাওয়া সেই জয় ইতালিকে মূল আসরের বাইরে রেখে দেয় এবং ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ গ্রিসকে শিরোপার দাবিদার মনে করেনি। কিন্তু একের পর এক চমক দেখিয়ে তারা ফাইনালে স্বাগতিক পর্তুগালকে হারিয়ে ইউরোপসেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
তারকাসমৃদ্ধ আইভরি কোস্টকে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতে নেয় জাম্বিয়া। প্রতিযোগিতার অন্যতম স্মরণীয় ফাইনাল হিসেবে ম্যাচটি এখনও আলোচিত।
জনসংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্র একটি দেশ হয়েও আইসল্যান্ড ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। সেই ফলাফল ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয় ইতালি। রে হাউটনের গোলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে এবং ফুটবল ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অঘটনগুলোর একটি ঘটে ১৯৫০ সালে। তুলনামূলক দুর্বল যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে। আজও সেই ম্যাচকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর ফলাফল হিসেবে দেখা হয়।
ফুটবলের ইতিহাসে এমন অঘটনগুলোই প্রমাণ করে, মাঠের লড়াইয়ে নাম ও খ্যাতির চেয়ে দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। আর এ কারণেই ফুটবল কোটি মানুষের কাছে এতটা জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর।
এসআর