[email protected] মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩

ভোজিনিয়ার কান্নায় ভিজেছেন ফুটবলপ্রেমীরা

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬ ৩:১৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ড্রয়ের নায়ক একজনই গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স শুধু দলকে একটি মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেয়নি, মুগ্ধ করেছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে।

ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জলেই যেন প্রকাশ পেয়েছে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম আর অর্জনের গল্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত-সমর্থকদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।

স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ সামলেছেন ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দলের তারকা ফুটবলারদের সামনে তিনি যেন অদম্য এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। নিশ্চিত গোলের সুযোগ বারবার নষ্ট করে দেন নিজের অসাধারণ দক্ষতায়।

ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই তাঁর পারফরম্যান্সের সঙ্গে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘শাওলিন সকার’-এর সেই বিখ্যাত গোলরক্ষকের দৃশ্যের তুলনা করেছেন, যেখানে অবিশ্বাস্য সব শট ঠেকিয়ে দলকে বাঁচাতে দেখা যায় একজন গোলকিপারকে।

ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সও যেন বাস্তবের মাঠে সেই গল্পকেই নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে।

পরিসংখ্যানও তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ম্যাচে অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোলরক্ষাকারী সেভ করেন তিনি। পাশাপাশি বল বিতরণ ও পজিশনিংয়েও ছিলেন অনবদ্য।

স্পেনের আক্রমণভাগকে বারবার হতাশ হতে হয়েছে তাঁর কারণে।

ম্যাচের একপর্যায়ে স্পেন কোচ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। তবে ইয়ামালও ভোজিনিয়ার দৃঢ়তা ভাঙতে পারেননি।

মজার বিষয় হলো, দুই ফুটবলারের বয়সের ব্যবধান ২১ বছরেরও বেশি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিপক্ষ দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্যতম বড় বয়সের ব্যবধান হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এক ম্যাচে ভোজিনিয়ার চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন কেবল একজন।

ফলে তাঁর এই পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের স্মরণীয় গোলকিপিং প্রদর্শনীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক খেলোয়াড়রাও ভোজিনিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনেকেই এটিকে চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কেপ ভার্দে যে একটি পয়েন্ট অর্জন করেছে, তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের।

এই ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

তবে স্পেনের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর মুহূর্তেই তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। নতুন করে লাখো মানুষ তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।

ভোজিনিয়ার চোখের জল ছিল না হতাশার প্রতীক। বরং সেটি ছিল সাফল্য, সংগ্রাম এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।

ফুটবল বিশ্ব তাই তাঁর কান্নায় খুঁজে পেয়েছে এক অনন্য বিজয়ের গল্প—যেখানে সাহস, আত্মবিশ্বাস আর অদম্য লড়াইয়ের কাছে হার মেনেছে সব পূর্বাভাস।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর