দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে সুখকর শুরু করতে পারেনি তুরস্ক। নেস্টরি আইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফের গোলে তুর্কিদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
শনিবার রাতে (বাংলাদেশ সময় রবিবার সকালে) কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শকের সামনে গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার চেয়ে কার্যকারিতাতেই এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে তুরস্ক। তবে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ এবং তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। ম্যাচের আগেই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানকে বেঞ্চে বসিয়ে প্যাট্রিক বিচকে একাদশে রেখে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন কোচ টনি পপোভিক। সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করেছেন এই তরুণ গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে তুরস্ক। বিশেষ করে আব্দুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শক্তিশালী শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বিচ। পুরো ম্যাচে মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তুরস্কের আক্রমণের চাপ সামলে ২৭ মিনিটে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মাঝমাঠ থেকে পল ওকন-এংস্টলারের নিখুঁত পাস পেয়ে ডান দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান নেস্টরি আইরানকুন্ডা। বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে বক্সিং স্টাইলে উদযাপন করেন আইরানকুন্ডা, যা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি টিম কেহিলের বিখ্যাত উদযাপনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেও নিজের নাম লেখান এই তরুণ।
বিরতির পর সমতায় ফেরার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তুরস্ক। কোচ আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে জুভেন্টাস তারকা কেনান ইলদিজকে মাঠে নামান। রিয়াল মাদ্রিদের উদীয়মান তারকা আরদা গুলেরও কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলেন। ৫৭ মিনিটে তার নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যাট্রিক বিচ।
সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় তুরস্ক যখন রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে শুরু করে, তখনই সেই সুযোগ কাজে লাগায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে তুর্কি মিডফিল্ডার ইসমাইল ইয়ুকসেকের ভুল পাস কেটে নেন কনর মেটকাফে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো বাঁ-পায়ের শট জড়িয়ে যায় জালে। তাতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে সকারুজরা।
শেষ দিকে তুরস্ক একাধিক আক্রমণ চালালেও অস্ট্রেলিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ আর বিচের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের সামনে কোনো পথ খুঁজে পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয়োৎসবে মাতে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার ও সমর্থকরা।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘ডি’-তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে অবস্থান করছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ককে নকআউট পর্বের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন পরবর্তী ম্যাচে জয় পেতেই হবে। প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তুর্কিদের সামনে।
এসআর